Apan Desh | আপন দেশ

গাছে বেঁধে গৃহবধূকে নির্যাতন

জামালপুর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৮:৩২, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২২

আপডেট: ০০:১২, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২২

গাছে বেঁধে গৃহবধূকে নির্যাতন

সংগৃহীত ছবি

সময় বদলালেও বর্বরতা বদলায়নি। গাছের সাথে বেঁধে এক গৃহবধুকে নির্যাতন করেছে শশুর বাড়ির লোকজন। নির্যাতীত গৃহবধূর নাম মাহমুদা বেগম (৩০)। প্রতিবেশীদের মতোই মাকে পেটানোর দৃশ্য দেখেছে মাহমুদার ৩ বছরের কন্যা শিশুটিও। এ ঘটনায় একজনকে আটক করেছে পুলিশ। ঘটনার পর নির্যাতিতার গৃহবধূর স্বামী, ভাসুর ও তাদের স্ত্রীরা পলাতক রয়েছে।

এই বর্বরোচিত ঘটনাটি ঘটেছে আজ সোমবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে। জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের মালিরচরের জিগাতলা গ্রামে। স্থানীয়রা জানায়, ১২ বছর আগে বকশীগঞ্জ সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলমগীর কবির আলমাছ আলীর ছোট ভাই আসাদুল হকের সঙ্গে মাহামুদা আক্তারের বিয়ে হয়। মাহমুদা আক্তারের বাবার নাম মাহজন মিয়া। বাড়ী পাশের উপজেলা দেওয়ানগঞ্জের ঝাউডাঙ্গা গ্রামে। 

আসাদুল-মাহমুদা দম্পতির ঘরে একটি কন্যা সন্তান জন্ম নেওয়ার পর প্রায় ৩ বছর আগে আসাদুল হক সৌদি আরবে চলে যায়। ফিরেন মাস খানেক আগে। আসাদুল হক তার স্ত্রী মাহমুদা আক্তারের বিরুদ্ধে পরকীয়ার সন্দেহ করে। মাহমুদার উপর অমানুষিক নির্যাতন শুরু করে। নির্যাতনের এক পর্যায়ে গত সপ্তায় আসাদুল তার স্ত্রীকে বেড়ানোর কথা বলে বাবার বাড়ীতে নিয়ে যায়। 

এরই মধ্যে  নানা মাধ্যমে মাহমুদা শুনতে পায় তাকে তালাক দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আসাদুল। সংসার রক্ষার জন্য তিন বছরের শিশুটিকে কোলে নিয়ে আজ সোমবার দুপুরে শশুরবাড়ীতে ছুটে আসেন। আসার পর আসাদুলের ভাই বকশীগঞ্জ সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলমাসের নির্দেশে গৃহবধু মাহমুদাকে গাছের সাথে বেঁধে তার স্বামী আসাদুল, ভাতিজা সায়েম আলী, চেয়ারম্যানের স্ত্রী জায়েদা বেগম, ভাসুরের স্ত্রী শীলা বেগমসহ পরিবারের অন্যরা মিলে অমানুষিক শারিরীক নির্যাতন চালায়। মাহমুদা যখন হাওমাও করে কাদছিলেন তখন ৩ বছরের কন্যাটি মাকে পেটানোর দৃশ্য দেখছিল। প্রতিবেশীরাও প্রতিবাদ করবার সাহস দেখায়নি। 

তবে গাছের সাথে বেঁধে গৃহবধূ নির্যাতনের ছবি তুলে তা ফেসবুকে দেয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মুহুর্তেই ছবিটি ভাইরাল হয়। খবর পেয়ে বকশীগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নির্যাতনের শিকার গৃহবধু মাহমুদাকে উদ্ধার করে। নির্যাতনের অভিযোগে বড় জা শীলা বেগমকে আটক করা হয়। পুলিশ আসার খবর পেয়ে স্বামী আসাদুল সহ বাকী নির্যাতনকারীরা পালিয়ে যায়।

নির্যাতিত গৃহবধূ মাহমুদা বেগম আপন দেশ ডটকমকে বলেন, গত ৪/৫ দিন আগে আমার স্বামী আসাদুল হক নিজে আমাকে বেড়ানোর জন্য বাপের বাড়ি রেখে আসছে। আজ বাড়িতে আসছি বলতেছে আমাকে তালাক দিয়েছে। আমি এসবের কিছুই জানি না। প্রতিবাদ করায় তারা আমাকে গাছের সাথে বেঁধে নির্যাতন করেছে।

মাহমুদা বেগমের মা মনোয়ারা বেগম জানান, মেয়ের সুখের জন্য ৫ লাখ টাকা খরচ করে মেয়ে জামাই আসাদুলকে বিদেশ পাঠানো হয়েছে। বিদেশে গিয়ে সমস্ত টাকা পয়সা বড় ভাই ও ভাবীদের নামে পাঠিয়ে দেয় আসাদুল। মাহমুদার নামে মাত্র প্রতিমাসে ২ হাজার টাকা হাত খরচ দিত। দেশে ফিরে অহেতুক সন্দেহ করে মাহমুদার সাথে খারাপ আচরনসহ মানুষিক ও শাররিক নির্যাতন শুরু করে।

তিনি বলেন, তারা ( আসাদের পরিবার) বলছেন আমার মেয়েকে ১২ দিন আগে তালাক দিয়েছেন। তাহলে তালাক দেওয়ার পরেও কিছু না জানিয়ে সংসার কেমনে করল। আজ গাছের সাথে বেধেঁ নির্যাতন করল। আমি এই ঘটনার বিচার চাই।

আজ ( ৫ সেপ্টেম্বর) শশুর বাড়ীতে ফিরে গেলে গাছের সাথে বেঁধে নির্যাতন করে আসাদুল ও তার ভাই ও তাদের স্ত্রীরা। আমার মেয়ে নানা অত্যাচার সহ্য করে সংসার করে আসছিল। নির্যাতনের পর তাদের অপরাধ ঢাকতে আমার মেয়ের নামে মিথ্যা অপবাদ ছড়াচ্ছে। আমার মেয়ে এমন না, খুবই সহজ সরল ধৈর্যশীল বলে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন অসহায় এই মা।

এ বিষয়ে আসাদুলের ভাই বকশীগঞ্জ সদর ইউনিয়নের  চেয়ারম্যান আলমগীর কবির আলমাস ঘটনাটি ভিন্নখাতে প্রবাহের চেষ্টা করছেন। তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তার ছোট ভাই এর স্ত্রী মাহামুদা বেগম বাড়ীতে এসে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। তাকে নিবৃত করতে গাছের সাথে বেঁধে রাখা হয়। এ সময় একটি তালাক নামাও দেখানো হয়েছে। আমার পরিবারের কেউ নির্যাতন করেনি।

এ বিষয়ে বকশীগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শরিফ উদ্দিন জানান, ঘটনা শোনার সাথে সাথে গৃহবধুকে উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে। এ ঘটনায় শীলা বেগম নামে একজনকে আটক করা হয়েছে। নির্যাতিতার পরিবার থানায় লিখিত অভিযোগ দিলে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

আপন দেশ ডটকম/ আবা

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

জনপ্রিয়