Apan Desh | আপন দেশ

পেনশনের টাকা শিয়ালের কাছে মুরগি বর্গা রাখার মতো হবে: বিরোধী দল

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২০:২১, ২৪ জানুয়ারি ২০২৩

আপডেট: ২১:৫৫, ২৪ জানুয়ারি ২০২৩

পেনশনের টাকা শিয়ালের কাছে মুরগি বর্গা রাখার মতো হবে: বিরোধী দল

ছবি: সংগৃহীত

সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থাপনা বিল-২০২২’ পাস হয়েছে সংসদে। বিলটি নিয়ে সমালোচনার ঝড় তোলেছে বিরোধীরা। এই বিল পাস করার কোনো সুযোগ নেই। এ পেনশন শিয়ালের কাছে মুরগি বর্গা রাখার মতো। সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এই আইনে বলা হচ্ছে, মানুষের কাছ থেকে চাঁদা নিয়ে সরকার আবার ফেরত দেবে। ৩৬ বছর চাকরি করার পর একজন শিক্ষক এখনো পেনশনের টাকা তুলতে পারেননি। এই টাকার নিরাপত্তা কী? 

মঙ্গলবার (২৪ জানুয়ারি) অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ‘সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থাপনা বিল-২০২২’ পাসের প্রস্তাব করেন। পরে কণ্ঠভোটে তা সংসদে পাস হয়।

বিল পাসের আলোচনায় অংশ নিয়ে জাতীয় পাটির সংসদ সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, শিয়ালের কাছে মুরগি বর্গা রাখার মতো। মানুষ ব্যাংকে টাকা রাখবে আর ব্যাংক দেদার টাকা বিদেশে পাচার করবে। ব্যাংকগুলো মানুষের আস্থা হারিয়েছে। এক ব্যাংকের পরিচালক আরেক ব্যাংক থেকে টাকা নিচ্ছেন। ব্যাংকগুলো বারভূঁইয়াদের কাছে চলে গেছে। সব সুবিধা পাচ্ছেন ঋণখেলাপিরা। এ সময় বিদেশে টাকা পাচার নিয়ে প্রথম আলোতে প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, দেখার কেউ নেই। যারা টাকা পাচার করছে, তাদের উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে।

গণফোরামের সংসদ সদস্য মোকাব্বির খান বলেন, বিলটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ, এটি চমৎকার উদ্যোগ। কিন্তু এই পেনশন–ব্যবস্থায় সাধারণ মানুষের সাড়া পাওয়া যাবে না। কারণ, সরকারি চাকরিজীবীরা যেভাবে পেনশন পান, তার সঙ্গে অনেক কিছুই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। মানুষ রিটার্ন কীভাবে পাবে, তা পরিষ্কার নয়। এটা অনেকটা ব্যাংকিং প্যাকেজের মতো। এই বিল পাসের আগে সাধারণ মানুষের মতামত নেয়া উচিত।

জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য মুজিবুল হক বলেন, ‘বিলের কথাগুলো ভালো। কিন্তু এই পেনশন স্কিমে সরকারের অংশগ্রহণ কী? সরকারের কোনো অংশগ্রহণ নেই। এটা ব্যাংকের ডিপিএস স্কিমের মতো। গুঞ্জন আছে, সরকারের কি টাকার অভাব হয়েছে যে জনগণের কাছ থেকে টাকা নিয়ে চলবে?

টাকা পাচার, বিদেশে বাংলাদেশিদের বাড়ি কেনাসহ বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরে অর্থমন্ত্রীর সমালোচনা করে মুজিবুল হক বলেন, অর্থমন্ত্রী কথা কম বলেন। বোবার শত্রু কম। কিন্তু অর্থমন্ত্রীর কানে কথা পৌঁছায় কি না, জানা নেই। তার কোনো ফিডব্যাক, উদ্যোগ দেখা যায় না।

জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য ফখরুল ইমাম বলেন, বিলটি সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। সংবিধানে বল হয়েছে, সামাজিক নিরাপত্তার অধিকার, অর্থাৎ বেকারত্ব, ব্যাধি বা পঙ্গুত্বজনিত কিংবা বৈধব্য, মাতৃপিতৃহীনতা বা বার্ধক্যজনিত কিংবা অনুরূপ অন্যান্য পরিস্থিতিজনিত আয়ত্তাতীত কারণে অভাবগ্রস্ততার ক্ষেত্রে সরকারি সাহায্যলাভের অধিকার।’ এগুলো নাগরিকের অধিকার৷ কিন্তু এই আইনে বলা হচ্ছে, মানুষের কাছ থেকে চাঁদা নিয়ে সরকার আবার ফেরত দেবে। এই বিল পাস করার কোনো সুযোগ নেই।

জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, আপাতদৃষ্টে আইনটি ভালো। কিন্তু বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান যেভাবে প্রভিডেন্ট করে, এটি তার বাইরে কিছু বলে মনে হয় না। সরকার কী মুনাফা দেবে, তা পরিষ্কার নয়। তিনিও দাবি করেন, এ আইন সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

জাতীয় পার্টির আরেক সংসদ সদস্য পীর ফজলুর রহমানও দাবি করেন, এই বিলের সংবিধানের সঙ্গে মিল নেই।

স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বলেন, তার এক শিক্ষক ৩৬ বছর চাকরি করার পর এখনো পেনশনের টাকা তুলতে পারেননি। জনগণ পেনশনের টাকা জমা দেবেন কিন্তু তারা তো অফিসের বারান্দাই চেনেন না। এই টাকার নিরাপত্তা কী? যাঁরা একবার সংসদ সদস্য হয়েছেন, তাঁদের জন্য আজীবন পেনশন স্কিম চালু করার দাবি জানান তিনি।

আপন দেশ ডটকম/ এবি

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

জনপ্রিয়