Apan Desh | আপন দেশ

দেশে ক্যান্সার চিত্র: বছরে দেড় লাখ আক্রান্ত, মারা যায় প্রায় ৯১ হাজার

বিশেষ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৬:৩৫, ১৯ ডিসেম্বর ২০২২

আপডেট: ১৮:৩৫, ২৮ ডিসেম্বর ২০২২

দেশে ক্যান্সার চিত্র: বছরে দেড় লাখ আক্রান্ত, মারা যায় প্রায় ৯১ হাজার

প্রতীকী ছবি

ক্যানসার রোগীর তালিকা দীর্ঘ হচ্ছে। অধিকাংশ রোগী শনাক্তের বাইরে। এরপরও যেসব রোগী শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে তাদের মধ্যে পুরুষদের ফুসফুস ও নারীদের স্তন ক্যানসারে আক্রান্তের হার বেশি। চিকিৎসকরা বলছেন, রোগী যখন চিকিৎসা নিতে আসেন ততক্ষনে রোগীর অবস্থা নাজুক, ক্যান্সার থাতে অ্যাডভান্স ষ্টেজে। ফলে আমরা র্ব্যথ হই।

ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সি ফর রিসার্চ তথ্য অনুযায়ী প্রতি বছর বাংলাদেশে ১ লাখ ৫০ হাজার মানুষ ক্যান্সারে আক্রান্ত হন। যা প্রতি ২৪ ঘণ্টায় প্রায় ৪১১জন। এর মধ্যে প্রতি বছর মারা যান প্রায় ৯১ হাজার ব্যক্তি। দৈনিক প্রায় ২৪৯ জনের বেশি। মৃত্যুবরণকারী ব্যক্তিগণ প্রধানত ফুসফুস, কোলোরেক্টাল, পাকস্থলি, লিভার, স্তন, খাদ্যনালী, প্যানক্রিয়াস ও জরায়ুমুখ ক্যান্সারে ভুগেই মারা যান সবচেয়ে বেশি। বাংলাদেশে শনাক্ত মোট ক্যান্সার রোগীর প্রায় ১৬ শতাংশই ফুসফুসের ক্যান্সারে আক্রান্ত। অনেক ক্ষেত্রে ক্যান্সার শুধু ফুসফুসেই সীমাবদ্ধ না থেকে তা লসিকাগ্রন্থি ও অন্যান্য অঙ্গে (যেমন মস্তিষ্ক, হাড় ইত্যাদি) ছড়িয়ে পড়তে পারে।

এক গবেষণা প্রতিবেদনে জানা যায়, ২০১৮ সাল থেকে ২০২০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত রাজধানীর জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে আসা প্রায় ৩৬ হাজার রোগীর ডায়াগনোসিস করে পুরুষদের ফুসফুস ও নারীদের স্তন ক্যানসারে আক্রান্তের হার বৃদ্ধির এই চিত্র পাওয়া গেছে। একই সময়ে ৮৩ হাজার ৭৯৫ জন নতুন রোগী আসলেও এদের মধ্যে ৩৫ হাজার ৭৩৩ জনের ডায়াগনসিস হয়েছে। এতে ক্যানসার শনাক্ত হয় ৪২ দশমিক ৬ শতাংশের।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. রোবেদ আমিন বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জাতীয়ভাবে ২০১৩ সালে একবার জনসংখ্যাভিত্তিক গবেষণা করেছিল। তারপরে আর হয়নি। আমরা নতুন করে অনুরোধ জানিয়েছি। এটা প্রয়োজন। কিন্তু এর জন্য আমাদের দেশ কতটা প্রস্তুত তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর পরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. শামিউল ইসলাম বলেন, আমাদের দেশে ক্যানসারের চিকিৎসা ব্যয় বেশি। এ কারণে এই জায়গায় গুরুত্ব দিতে হবে রাষ্ট্রের। যেখানে চিকিৎসা বিজ্ঞান উন্নত হয়েছে, সেখানে আমরা এখনো পিছিয়ে। ডায়াগনোসিস করতে পারছি না। কেন এমনটি হবে- প্রশ্ন রাখেন তিনিই।

আন্তর্জাতিক সংস্থা আইএআরসি বলছে, বাংলাদেশে প্রতি বছর ১৩ হাজারের বেশি নারী নতুন করে স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হন। প্রতিবছর দেশে ১০ হাজারের বেশি নারী জরায়ুমুখ ক্যানসারে মারা যান। বাংলাদেশে ক্যানসারে নারী মৃত্যুর দ্বিতীয় প্রধান কারণ জরায়ুমুখ ক্যানসার। অসচেতনতা ও অবহেলা এই ক্যানসারে মৃত্যুর প্রধান কারণ। 

৯ শ্রেণির নারীর স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বেশি

এদের মধ্যে ১) বয়স ৩৫ বছরের বেশি হলে ২) স্তন ক্যান্সারের পারিবারিক ইতিহাস থাকলে ৩) বেশি বয়সে প্রথম সন্তান ধারণ করা অথবা নিঃসন্তান থাকা ৪) সন্তানকে বুকের দুধ পান না করানো ৫) দীর্ঘদিন ধরে জš§নিয়ন্ত্রণের জন্য পিল বা বড়ি খাওয়া ৬) ১২ বছর বয়সের আগে প্রথম ঋতুস্রাব হওয়া অথবা ৫০ বছর পরে গিয়ে ঋতুস্রাব বন্ধ হওয়া ৭) অত্যধিক চর্বিযুক্ত খাদ্যাভ্যাস ৮) ধূমপান, মদ্যপান এবং তামাকজাতীয় দ্রব্যে আসক্ত থাকা ৯) দীর্ঘদিন তেজস্ক্রিয় পদার্থের সংস্পর্শে থাকা।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ব্রেস্ট, ল্যাপারোস্কোপিক ও কলোরেক্টাল সার্জন এবং সহকারী অধ্যাপক ডা. মোছা. বিলকিস ফাতেমা আপন দেশ ডটকমকে বলেন, একটু সচেতন থাকলেই এই ব্যাধিকে প্রতিরোধ করা যায়। ঝুঁকিতে থাকা এই ৯ শ্রেণির নারী নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার মাধ্যমে খুব সহজে এ বিপদ এড়িয়ে চলতে পারেন। ৩৫ বছররের ওপরের নারীরা ম্যারেনাগ্রাফিক স্ক্রিনিং করে এ থেকে পরিত্রান পেতে পারেন। উপসর্গ দেখা দিলে সংকোচ দূর করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। পাশাপাশি নিজে নিজে স্তন পরীক্ষার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।

বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হসপিটালের অনকোলজি ও রেডিওথেরাপি বিভাগের সিনিয়র কনসালট্যান্ট ও সমন্বয়ক অধ্যাপক ডা. কামরুজ্জামান চৌধুরী বলেন, বর্তমানে আমাদের দেশে বিশেষ করে পুরুষেরা ফুসফুসে ক্যানসারে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। এই রোগীরা বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই অ্যাডভান্সড স্টেজে আসে। তখন ক্যান্সার পুরোপুরিভাবে নির্মূল করা বেশ কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। 

আপন দেশ ডটকম/ এবি
 

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

জনপ্রিয়