Apan Desh | আপন দেশ

আইএমএফের মানদণ্ডে বাংলাদেশের রিজার্ভ ২৪ বিলিয়ন ডলারের ঘরে

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১২:০৩, ৯ জানুয়ারি ২০২৩

আপডেট: ১৯:৪৪, ৯ জানুয়ারি ২০২৩

আইএমএফের মানদণ্ডে বাংলাদেশের রিজার্ভ ২৪ বিলিয়ন ডলারের ঘরে

ফাইল ছবি

ডলার সংকট চলছে দেশে ব্যাপকহারে। বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংক রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি করছে। ফলে বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ (রিজার্ভ) আরও কমেছে। এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) ১১২ কোটি ডলার পরিশোধের পর রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩২ দশমিক ৫৭ বিলিয়ন বা ৩ হাজার ২৫৭ কোটি ডলার। আইএমএফ-এর মানদণ্ড অনুযায়ী ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ দাঁড়াবে ২৪ বিলিয়ন ডলারের ঘরে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের (বিবি) সর্বশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা যায়।

বিবির তথ্য অনুযায়ী, রোববার (৮ জানুয়ারি) দিন শেষে রিজার্ভ কমে দাঁড়ায় ৩২ দশমিক ৫৭ বিলিয়ন বা ৩ হাজার ২৫৭ কোটি মার্কিন ডলার। এর আগে বৃহস্পতিবার রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩৩ দশমিক ৬৩ বিলিয়ন ডলার বা ৩ হাজার ৩৬৩ কোটি ডলার।

আরও পড়ুন<<>> ছয় মাসে সর্বোচ্চ ডলার পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসীরা

আকু হলো একটি আন্তঃদেশীয় লেনদেন নিষ্পত্তি ব্যবস্থা। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, ইরান, মালদ্বীপ, মিয়ানমার, নেপাল ও পাকিস্তানের মধ্যেকার লেনদেনের দেনা পরিশোধ করা হয়। দায়দেনা পরিশোধের মতো রিজার্ভ না থাকায় গত অক্টোবরে আকু থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করেছে শ্রীলঙ্কা।

এদিকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) এর মানদণ্ড অনুযায়ী, বর্তমান রিজার্ভ থেকে আরও ৮ দশমিক ৪০ বিলিয়ন ডলার বাদ যাবে। এতে ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ দাঁড়াবে ২৪ বিলিয়ন ডলারের ঘরে। সংস্থাটির মানদণ্ড অনুসারে, দেশের মজুদকৃত রিজার্ভ থেকে রফতানি উন্নয়ন তহবিল (ইডিএফ) থেকে শ্রীলঙ্কাকে দেয়া ঋণ এবং রিজার্ভ থেকে দেশীয় প্রকল্পে অর্থায়নের ব্যয় বাদ যাবে। তবে সরকার এখন আইএমএফ এবং নিজস্ব অর্থাৎ দুই ধরনের হিসাবই রাখছে।

অন্যদিকে বৈদেশিক মুদ্রাবাজার ইতিবাচক ধারা ফিরিয়ে আনতে আমদানি দায় কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন আমদানিতে বাণিজ্যিক ঋণপত্র (এলসি) কমলেও আগের দায় পরিশোধে কিছুটা চাপের কারণে বৈদেশিক মুদ্রার খরচ কমেনি। গত নভেম্বর মাস পর্যন্ত পাঁচ মাসে আমদানি দায় পরিশোধ বেড়েছে ৪ দশমিক ৪১ শতাংশ। বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১১ দশমিক ৭৯ বিলিয়ন ডলার। আর একই সময়ে সামগ্রিক লেনদেন ভারসাম্যে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক ৩৮ বিলিয়ন ডলারে। আমদানি দায় পরিশোধে গত বছর রিজার্ভ থেকে ১২ দশমিক ৬১ বিলিয়ন ডলার বিক্রি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

আরও পড়ুন<<>> আইএমএফের ৩০ শর্তেই রাজি বাংলাদেশ

এর আগে ২০২১ সালের আগস্টে প্রথমবারের মতো দেশের ইতিহাসে রিজার্ভ ৪৮ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করেছিল। আর ২০১৭ সালের মাঝামাঝি সময়ে রিজার্ভ ৩৩ বিলিয়ন ডলারের ঘর অতিক্রম করেছিল। করোনার প্রভাব আর রাশিয়া-ইউক্রেন পরিস্থিতির কারনে রিজার্ভ কমতে থাকে। সবশেষ রিজার্ভ ৩৩ থেকে ৩৪ বিলিয়ন ডলারের ঘরে ওঠানামার মধ্যে ছিল।

অন্যদিকে রিজার্ভের পতন ঠেকাতে আইএমএফ’র তহবিল থেকে সাড়ে ৪ বিরিয়ন ডলার ঋণ নেয়ার আলোচনাও চূড়ান্ত পর্যায়ে। তাছাড়া দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের স্বার্থে সরকার বিশ্বব্যাংক, জাইকাসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে ঋণ নেয়ার চেষ্টা করছে।

আপন দেশ ডটকম/ এবি

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

জনপ্রিয়