Apan Desh | আপন দেশ

মধুসিটি হাউজিংয়ের বিরুদ্ধে ভূমিদস্যুতার অভিযোগে মানববন্ধন

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২১:০২, ৯ মার্চ ২০২৩

আপডেট: ০০:৫১, ১০ মার্চ ২০২৩

মধুসিটি হাউজিংয়ের বিরুদ্ধে ভূমিদস্যুতার অভিযোগে মানববন্ধন

ছবি: আপন দেশ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন দেশের প্রতি ইঞ্চি জমিতে ফসল আবাদের আহ্বান জানাচ্ছেন তখন আবাসন কোম্পানি ‘মধুসিটি হাউজিং’ সন্ত্রাসী বাহিনীর মাধ্যমে কেরানীগঞ্জের কৃষিজমি সরকারি দখল করছে, খাল-বিলে বালু ভরাটের মাধ্যমে প্লট বানিয়ে বিক্রি করছে। মালিকানা জমিও বেদখলে নিচ্ছে। প্রতিবাদ করতে গিয়ে ‘মোটরসাইকেল বাহিনীর’ তাণ্ডবের শিকার হয়ে এলাকা ছাড়া হয়েছেন অনেকেই।

ভূমিদস্যুদের গ্রাস থেকে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার কাঠালতলী, চন্ডিপুর ও বেলনাসহবিস্তর এলাকার তিন ফসলী কৃষিজমি এবং সরকারি খাল-বিল-জলাশয়  রক্ষায় মানববন্ধন করেছে স্থানীয়রা। বৃহস্পতিবার (৯ মার্চ) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এ কর্মসূচি পালন করেছে। এর আগে ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরেও স্থানীয়রা নিজ জমিতে মানববন্ধন করেছিল। 

ভূমিদস্যুদের থাবায় কৃষি জমিহারা কৃষক, বসত-ভিটা হারানো নিরীহ মানুষ, স্থানীয় নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিসহ কয়েকশ’ লোক ব্যানার নিয়ে মানববন্ধনে অংশ নেন। তারা ‘মধুসিটি হাউজিং’এর মালিক দুই ভাই ছলিম উল্যাহ ও হাবিবুর রহমান হাবিবকে গ্রেফতার করে বিচারের দাবি জানান প্রধানমন্ত্রীর কাছে।

ভুক্তভোগীরা মানববন্ধন থেকে অভিযোগ করে বলেন, কেরানীগঞ্জের ত্রাস এখন আবাসন কোম্পানি ‘মধুসিটি হাউজিং’। সন্ত্রাসী বাহিনীর তত্বাবধানে এলাকার কৃষিজমি দেদারছে দখল করে বালু ভরাটের মাধ্যমে প্লট বানিয়ে বিক্রি করছে। এলাকার বেশিরভাগ সরকারি খাল-বিল-জলাশয়ও বেদখল, প্লট বানিয়ে বিক্রি করছে কোম্পানিটি। সরকারি খাল-বিল-জলাশয় উদ্ধার এবং কৃষিজমি রক্ষায় থানায় বহু মামলা ও সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে এবং উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হয়েও প্রতিকার পাননি এলাকাবাসী।

( ২০২০ সালেরও মধুসিটি হাউজিং কোম্পানির বিরুদ্ধে মানববন্ধন করে কেরানীগঞ্জের তারানগর ইউনিয়নের চণ্ডিপুর গ্রামের লোকজন)

মানববন্ধনে স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধি কৃষিবিদ মোসলেহ উদ্দিন ফারুক বলেন, ভূমিদস্যুদের কবলে পড়ে কেরানীগঞ্জ মডেল থানাধীন কাঠালতলী, চন্ডিপুর ও বেলনাসহ প্রায় পুরো এলাকা কৃষিজমিহীন হওয়ার উপক্রম। তাদের হাত থেকে সরকারি খাল-বিল-জলাশয়ও রেহাই পাচ্ছে না। শুধু এলাকার কৃষিজমিই কমছে না, এলাকার পরিবেশও মারাত্বক হুমকির মুখে পড়ছে।

কৃষক মোহাম্মদ হাফিজ বলেন, মধুসিটি জোর করে মানুষের বসতভিটা ও কৃষিজমি বেদখল করছে। কেউ প্রতিবাদ করলে ভুয়া মামলা দিয়ে হয়রানি করা হয়।

জমি হারানো সালাহউদ্দিন বলেন, রাতের আঁধারে বালু ফেলে স্থানীয়দের কৃষিষজমি দখল করে নেয়া হচ্ছে।

অ্যাডভোকেট মাসুদ বলেন, নিজের কৃষিজমি ও বসতভিটা রক্ষায় স্থানীয়দের রীতিমতো সংগ্রাম করতে হচ্ছে। বেদখলকারীদের ভয়ে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ।

কৃষক সারোয়ার হোসেন বলেন, নামমাত্র মূল্যে জোর করে মানুষের কৃষিজমি দখল করে নিচ্ছে মধুসিটি। প্রতিবাদ করলে ‘মোটরসাইকেল বাহিনী’ নামক সন্ত্রাসী দিয়ে আক্রমণ চালানো হয়। এতে সেখানকার কৃষকরা ভীতসন্ত্রস্ত।

স্থানীয় নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি রুহুল আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী কৃষিবান্ধব। চলমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী বারবারই কৃষিজমি রক্ষার এবং ফসল ফলানের আহবান জানাচ্ছেন।

আপন দেশ/এবি

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

জনপ্রিয়