Apan Desh | আপন দেশ

ফাঁসাতে গিয়ে ফেঁসে গেলেন

নোয়াখালী প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৯:১০, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

ফাঁসাতে গিয়ে ফেঁসে গেলেন

ছবি : আপন দেশ

আত্মগোপনে গিয়ে অপহরণের নাটক সাজিয়ে প্রতারণার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গ্রেফতারকৃত কথিত ভিকটিমের নাম শেরআলী (৩২)। সে নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলার নলুয়া গ্রামের সামছুদ্দিনের ছেলে।  

সোমবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দুপুর দেড়টার দিকে ওসি নাজিম উদ্দিন আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে, গতকাল রোববার রাত ৯টার দিকে কক্সবাজার পৌর বাস টার্মিনালের মারছা বাস কাউন্টারের সামনে থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।    

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অপহরণের নাটক সাজিয়ে ভিকটিম নিজেই আত্নগোপনে যায়। এরপর ভিকটিম তার চাচাকে দিয়ে অপহরণ মামলা দায়ের করান।  

পুলিশ জানায়, মোবারক ও শের আলী দুজনেই অটোরিকশা চালক। নোয়াখালীর হাতিয়া বাজারে মোবারকের বাসা। চট্টগ্রাম হালিশহর এলাকায় শেরআলীর বাসা। চালক সুবাদে ওস্তাদ-সাগরিদ সম্পর্ক গড়ে উঠে। ২০২২ সালের ২২ জুলাই মোবারক মোটরসাইকেল কিনতে শের আলীকে নিয়ে চট্টগ্রাম কাপ্তাই রাস্তার মাথাধীন মৌলভী বাজার মোটর সাইকেল শো-রুমে যায়। মোবারক লুঙ্গি পরে যায় এবং কথিত ভিকটিম শেরআলীর পরনে ছিল প্যান্ট। মোবারক মোটরসাইকেল কেনার এক লক্ষ ২০ হাজার টাকা ও ১টি মোবাইল সেট শেরআলীর কাছে রাখতে দেয়। 

পুলিশ আরও জানায়, মোবারক মোটরসাইকেল শো-রুমে ঢুকে মোটরসাইকেল দরদাম করে মোটরসাইকেল রেজিস্ট্রেশন করার জন্য ছবি ও এআইডি কার্ড প্রিন্ট করতে যায়। এ সুযোগে শেরআলী মোবারকের টাকা ও মোবাইল সেট নিয়ে গাঢাকা দেয়। ২০২২ সালের ২২ সেপ্টেম্বর মোবারক ও তার বন্ধু ইউসুফ নলুয়া জনতা বাজারে এসে এ বিষয়ে স্থানীয় লোকজনকে জানায়। সালিশ বৈঠকও হয়। সালিশে বিষয়টি অমীমাংসিত থাকায় স্থানীয় লোকজন বিষয়টি সমাধানের জন্য হাতিয়ার হরণী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আক্তার হোসেনের শরণাপন্ন হয়। একই দিন মোবারক ও শেরআলী হরণী ইউনিয়নের বয়ারচর বাজারে যায়। সেখানে মোবারক শেরআলীকে দোতলা বিল্ডিংঘরে রেখে চেয়ারম্যানকে আনতে যায়। এ সময় ভিকটিম কৌশলে পালিয়ে যায়। 

ভুক্তভোগীরা জানান, পরবর্তীতে তার চাচা দেলোয়ার হোসেন বিটু মামলা করে। শেরআলী ও তার ছেলে মারুফ অপহরণ হয়েছে দাবি করা হয়। জমি নিয়ে পূর্ব বিরোধ থাকা শামছুল হক মাঝিসহ ওই এলাকার আরো ৯জন সহ মোবারক ও তার বন্ধু ইউসুফের বিরুদ্ধে ২০২২ সালের ১২ জুলাই আদালতে অপহরণ মামলা দায়ের করেন। 
আদালতের নির্দেশে কবিরহাট থানায় মামলা করা হয়।  প্রথমে কবিরহাট থানা পুলিশ তদন্ত করে পরে ডিবি নোয়াখালীতে ন্যস্ত হয়। 

জেলা ডিবির ওসি নাজিম উদ্দিন আহমেদ আরও বলেন, কথিত ভিকটিম শের আলী পেশায় একজন ড্রাইভার। সে খুবই চুতর ও ধূর্ত প্রকৃতির। সে ঘনঘন মোবাইল সীম পরিবর্তন করায় তাহার সঠিক অবস্থান নির্ণয় করা কঠিন হয়ে পড়ে। তার মোবাইল নাম্বারের কললিস্ট পর্যালোচনায় দেখা যায় সে ক্সবাজার, বান্দরবন, চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি, কুমিল্লা, নারায়নগঞ্জ, ঢাকা, গাজীপুর, মুন্সিগঞ্জসহ একেক সময় একেক স্থানে অবস্থান করে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাকে গ্রেফতার করা হয়। কথিত ভিকটিম শের আলীকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বিজ্ঞ আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে।

আপন দেশ/এবি

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

জনপ্রিয়