Apan Desh | আপন দেশ

ঈদ নেই পাবনার লুঙ্গি দোকানগুলোতে

পাবনা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৫:৪৭, ১ এপ্রিল ২০২৪

আপডেট: ১৫:৫৮, ১ এপ্রিল ২০২৪

ঈদ নেই পাবনার লুঙ্গি দোকানগুলোতে

ছবি: আপন দেশ

লুঙ্গি উৎপাদনে সুখ্যাতি রয়েছে পাবনা জেলার। শহরের সবচেয়ে পুরনো লুঙ্গির দোকানগুলো বেনিয়া পট্টির ব্যাংক রোডে। বড় বড় ১২/১৫টি দোকান রয়েছে। ঈদে লুঙ্গির বাজার নিয়ে কথা হয় আরাফ লুঙ্গি ঘরের আহসানুল্লাহ মুন্সীর সঙ্গে। জানান ঈদ বাজারেও ব্যবসায় মন্দার কথা। আধুনিকতার ছোঁয়ায় লুঙ্গির কদর কমেছে সর্বত্র। বিক্রিও কমেছে। এখন ব্যবসার হাল ধরে রাখায় যেন কঠিন হয়েছে লুঙ্গি ব্যবসায়ীদের।

বাপ-দাদার ব্যবসার ঘানি টানছেন আহসানুল্লাহ মুন্সী। বলেন, লুঙ্গি বিক্রি হচ্ছে কম। বেড়েছে সুতার দাম। ডলার সঙ্কটে সুতা আমদানিতেও খরচ বেড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে লুঙ্গিতে। দাম বেড়েছে ৫০-১০০ টাকা। সবমিলিয়ে ঈদকে কেন্দ্র করে দোকানগুলোতে ক্রেতার যে উপচে পড়া ভিড়, সেটি লুঙ্গি দোকানে অলিক কল্পনা। কয়েকবছর আগেও ঈদ বাজারে লুঙ্গির ব্যাপক চাহিদা ছিল। তবে সেটি এখন শুধুই অতীত।

এ ব্যবসায়ী বলেন, ঈদের এক সপ্তাহ আপনাদের (সাংবাদিক) সঙ্গে কথা বলার সময়ই পাবার কথা না। অথচ ক্রেতার আশায় কর্মচারীদের সঙ্গে টুল নিয়ে বাইরে বসে থাকতে হচ্ছে। এখন যদি বেচা-বিক্রি না হলে আর কখন হবে? এখন প্রতিদিন গড়ে ১০/১৫ হাজার টাকা বিক্রি হচ্ছে। গতবছর ৩০/৩৫ হাজার টাকার লুঙ্গি বিক্রি হয়েছে। দিন দিন লুঙ্গি ও তাঁতশিল্পজাত পণ্যের দুর্দিন আরও জেঁকে বসছে। এভাবে চললে বাপ-দাদার ব্যবসা কয়দিন চালাতে পারবো তা বলা মুশকিল।

একই হতাশার গল্প আধুনিক বস্ত্রালয়ের স্বত্ত্বাধিকারী আলমগীর কাওছারের। তিনি বলেন, আমার কাছে শুধু চাচকিয়া নয়, ২৫০ থেকে ৭৫০ টাকা দাম পর্যন্ত প্রায় সবধরনেই লুঙ্গি আছে। এটাই ঈদের বিক্রির সবচেয়ে ভালো সময়। এখনই যাকাত ফিতরা দিতে শাড়ি লুঙ্গি কেনেন ধনিরা। কিন্তু এখন অতিথির মতো হুট করে দু’একজন ক্রেতা আসেন। এছাড়া ১০/১৫ হাজার টাকার বেশি বিক্রি হয় না। অথচ অন্যান্য সময়েই ৫/৭ হাজার টাকা করে বিক্রি হতো। তাহলে নতুন করে ঈদে আমাদের কি আশা করার আছে?

আরও পড়ুন>> স্কুলের গাছ উধাও, মাটি পাশের খালে

তিনি বলেন, সময় পাল্টেছে। এখন ট্রাউজার আর হাফ প্যান্টেই অবসর সময় কাটায় মানুষ। যার কারণে লুঙ্গির চাহিদা কম। মানুষের ব্যাপক অভাব। লুঙ্গির চেয়ে খাবার ও অন্যান্য সামগ্রীর চাহিদা মেটানোই দায় হয়ে পড়েছে। এদিক চিন্তায় যাকাতের ধরণও পাল্টেছে। শাড়ি লুঙ্গির বদলে এখন নগদ টাকাই বেশি দান করছেন বিত্তবানরা। কারণ অসহায়েরা নগদ টাকাতেই অধিক খুশি। সবমিলিয়ে লুঙ্গি বাজারে ঈদ নেই।

মুশফিক আহমেদ নামে এক ক্রেতা জানান, আগের মতো এখন অফিস বা কাজ শেষে বাসায় গিয়ে লুঙ্গি পরা হয় না। মাঝে মাঝে পরার জন্য একটি হলেই হয়। যার জন্য কেনাও হয় না তেমন।

আরেক ক্রেতা গোলাম হাসান জানান, প্রায় ২০/৩০ জনের মধ্যে ৪/৫ জন বৃদ্ধকে যাকাত হিসেবে লুঙ্গি, আর দুজনকে শাড়ি দিব। তারা চেয়েছেন। বাকিদের নগদ টাকা। নগদ অর্থেই তাদের বেশি উপকার হয় বলে জানিয়েছেন। অথচ কয়েক বছর আগেও গড়ে সবাইকে শাড়ি লুঙ্গি দেয়া হতো।

আপন দেশ/আরএন/এসএমএ

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

জনপ্রিয়