Apan Desh | আপন দেশ

ফুলবাণিজ্যে ফাগুনের ছোঁয়া

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১০:৫৪, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

ফুলবাণিজ্যে ফাগুনের ছোঁয়া

ফাইল ছবি

ছন্দে ফিরেছে ফুলের বাজার। ব্যবসায়ীরা বলছেন, জানুয়ারিতে সামাজিক অনুষ্ঠান বেশি থাকায় বছরের শুরু ভালোই কেটেছে। আর বড় চার উপলক্ষ থাকায় ফেব্রুয়ারিতে বাণিজ্য বাড়বে কয়েক গুণ। চলতি মাসে রয়েছে পহেলা ফাল্গুন, ভালোবাসা দিবস, সরস্বতী পূজা ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। 

বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার সোসাইটি ও ঢাকা ফুল ব্যবসায়ী কল্যাণ বহুমুখী সমবায় সমিতির সভাপতি বাবুল প্রসাদ বলেন, ১৪ ফেব্রুয়ারি ঘিরে ইতোমধ্যে ফুলের বিক্রি কয়েক গুণ বেড়েছে। তবে অতীতের তুলনায় এই ফেব্রুয়ারিতে বিক্রি কম। কিন্তু দাম বেশি থাকায় বাণিজ্যের হিসাবটা বেশি।

সারাদেশে ফুলচাষি ও ব্যবসায়ীদের ২৬টি সংগঠনের সম্মিলিত কেন্দ্রীয় সংগঠন ‘বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার সোসাইটি’।

সংগঠনটির হিসাবে সারাবছর দেশে এক হাজার ২০০ থেকে দেড় হাজার কোটি টাকার ফুলের বাণিজ্য হয়। এর মধ্যে চলতি মাসে হতে পারে ২০০ কোটি টাকার।

সোমবার রাজধানীর শাহবাগ ফুল বাজারে গিয়ে দেখা যায়, ১৪ ফেব্রুয়ারিকে সামনে রেখে ফুলে ফুলে নতুন করে সেজেছে সব দোকান। একই দিনে (১৪ ফেব্রুয়ারি) পহেলা ফাল্গুন, ভালোবাসা দিবস ও সরস্বতী পূজা থাকায় চাহিদা অনেক বেড়েছে বলে জানান বিক্রেতারা।

শাহবাগ বটতলা ক্ষুদ্র ফুল ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সভাপতি মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, বহুদিন বাদে ব্যবসায়ীরা ব্যবসায় ফিরেছেন। ১৪ ফেব্রুয়ারি ঘিরে অন্তত ১৫ কোটি টাকার ফুল বিক্রি হবে এ বাজারে। বেশিও হতে পারে। তবে এবার দাম বেশি। বাগান মালিকরা দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন।

শাপলা পুষ্প কেন্দ্রের মো. মিরাজ হোসেন বলেন, ‘এবার সবকিছু ঠিকঠাক থাকায় ব্যবসা ভালো যাচ্ছে। ব্যস্ত সময় পার করছি আমরা।’

নিউ করবী পুষ্পালয়ের মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বিক্রি ভালো, আমরা খুশি। তবে পাইকারিতে ফুলের দাম অনেক বেড়েছে।

এ বাজারের ব্যবসায়ীরা জানান, ১৪ ফেব্রুয়ারি গোলাপের চাহিদা সবচেয়ে বেশি থাকে। গোলাপ এখনো ২০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু পাইকারি বাজারে দাম হু হু করে বাড়ছে। এভাবে চললে ১৪ ফেব্রুয়ারি গোলাপের দাম ৫০ টাকাও পড়তে পারে।

আরও পড়ুন <> বিশ্ব গোলাপ দিবস আজ

পাইকারি ব্যবসায়ী মো. সাব্বির হোসেন বলেন, ১৪ ফেব্রুয়ারি ঘিরে বিক্রি বাড়লেও দাম দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে। এক হাজার ২০০ টাকার দেশি গোলাপের বান্ডেল (১০০ পিস) হয়ে গেছে তিন হাজার টাকা। দুই হাজার টাকায় বিক্রি হওয়া ভারতীয় গোলাপের ১০০ পিসের বান্ডেল হয়েছে ছয় হাজার টাকা। আর ২০ পিসের চায়না গোলাপের বান্ডেল বিক্রি হচ্ছে তিন হাজার টাকা, যা গত মাসে ছিল দুই হাজার টাকা। দাম আরও বাড়বে।

এদিকে পহেলা ফাল্গুন ও ভালোবাসা দিবসকে সামনে রেখে যশোরের গদখালীর দেশে ফুলের বৃহৎ বাজারও চড়েছে। দুদিন আগেও যে গোলাপ ১০ থেকে ১৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে সেটি রোববার এক লাফে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২২ থেকে ২৫ টাকা দরে।দেশি জাতের পাশাপাশি সাদা রঙের চায়না গোলাপ বিক্রি হচ্ছে ৪৫ থেকে ৫০ টাকায়।

শুধু গোলাপ নয়, জারবেরা, গ্লাডিওলাস, রজনীগন্ধা, ভুট্টা, চন্দ্রমল্লিকা, জিপসিসহ প্রায় সব ফুলের দামই প্রতিটিতে পাঁচ থেকে ১০ টাকা বেশি বিক্রি হতে দেখা গেছে। স্থানীয় ফুল চাষি ও ব্যবসায়ীরা জানান, নিকট-অতীতে এমন দামে ফুল বিক্রির নজির নেই।

রোববার ভোরে গদখালীর ফুল বাজারে গিয়ে দেখা যায়, ক্রেতা-বিক্রেতাদের সরব উপস্থিতিতে বাজারে পা ফেলার জায়গা নেই। বিশেষ করে, পহেলা ফাল্গুন ও ভালোবাসা দিবসের দুদিন আগে ফুলের মোকামে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে এসেছেন ফুল ব্যবসায়ীরা। তবে বাজারে এসে ফুলের চড়া দাম দেখে তারা রীতিমতো হতবাক!

রফিকুল ইসলাম নামে এক ফুলচাষি বলেন, ফুল চাষে অনেকদিন ধরে লাভের মুখ দেখছিলাম না। আল্লাহ এ বছর আমাদের দিকে নজর দিয়েছেন। এর আগে বিশেষ দিবসে পাঁচ থেকে ১০ টাকাও দাম পাইনি গোলাপের। যেকারণে অনেকেই ফুল চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেন। তবে এবার বাজার ভালো পেয়ে অনেকেই ফুলক্ষেত টিকিয়ে রাখার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

গদখালীর ফুল ব্যবসায়ীদের নেতা আব্দুর রহিম বলেন, বৈরী আবহাওয়ার কারণে গোলাপসহ প্রায় সব ধরনের ফুলের উৎপাদন কম হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে আমরা অনেকটা সন্দিহান ছিলাম ভালো দাম পাওয়া নিয়ে। তবে প্রত্যাশার চেয়েও বেশি দাম পেয়ে ফুল চাষিরা বেশ খুশি।

আপন দেশ/এমআর

শেয়ার করুনঃ

জনপ্রিয়