Apan Desh | আপন দেশ

রামগঞ্জ বিএনপির জন্য হুমকি এলডিপির সেলিম!

নিজস্ব প্রতিবেদক ও লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২১:২৭, ৮ অক্টোবর ২০২২

আপডেট: ১১:৪০, ৯ অক্টোবর ২০২২

রামগঞ্জ বিএনপির জন্য হুমকি এলডিপির সেলিম!

ছবি: সংগৃহীত

শাহাদাত হোসেন সেলিম। এরশাদের লাঙল নিয়ে নামেন রাজনীতির চাষে। লাঙল ফেলে হাতে নেন ধানের শীষ। শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে এটাও হাতছাড়া। গাঁটছড়া বেঁধেছিলেন কর্নেল (অব.) অলির এলডিপির সঙ্গে। অলির আশীর্বাদে পেয়েছিলেন রামগঞ্জে ধানের শীষের টিকিট।

ভোটের মাঠে হেরে গিয়ে সেই এলডিপিকে ভেঙে গড়েন আরেক এলডিপি। ভাঙাগড়ায় পটু সেলিমের মিশন এবার রামগঞ্জ বিএনপি। ইতিমধ্যে পুরনো অনুসারী বিএনপির বেশ কিছু নেতাকর্মীকে বাগে এনেছেন।  স্থানীয় বিএনপিকে কোণঠাসা করতে সাথে নিয়েছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগকে।

দফায় দফায় বৈঠক করেছেন স্থানীয় এমপির সঙ্গে। রামগঞ্জ বিএনপির বিষফোঁড়া এখন বিত্তশালী সেলিম। স্থানীয় সুশীল থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের কাছে তিনি এখন ‘নষ্টা' রাজনীতিক। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এলডিপির একাংশের মহাসচিব সেলিম।

আওয়ামী লীগের হামলার শিকার হয়ে পঙ্গুত্ব বরণকারী রামগঞ্জ পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল হাশেম বলেন, মনোনয়ন পাওয়ার পর গণসংযোগে অনীহা ছিল সেলিমের। পাঠাতেন বিএনপি নেতাকর্মীদের। আর প্রতিপক্ষের হামলায় আহত হয়েছেন বিএনপির শতাধিক নেতাকর্মী। আমার মতো পঙ্গত্ব বরণ করেন অনেকে। ভোটে হারার পর আহত নেতাকর্মীদের খোঁজ নেননি সেলিম। আহত অবস্থায় আমি তাকে ফোন করলে অপমানজনক মন্তব্য করেন।

উপজেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল লতিফের অভিযোগ, পরাজিত হয়ে সেলিম দীর্ঘদিন রামগঞ্জে পা রাখেননি। তবে মাস কয়েক আগে থেকে চোরাগোপ্তা মিটিং করছেন। বিএনপির নেতায় নেতায় বিরোধের ফাঁকে ঢুকে যাচ্ছেন তিনি। ইতিমধ্যে দলে ফাটল ধরিয়েছেন। রহস্যময় ভূমিকা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সেলিমকে ‘এজেন্ট‘ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

তিনি আরও বলেন, জেলার বিএনপি দুজন নেতার সঙ্গে রয়েছে তার গভীর সখ্যতা। তাদের কাঁধে ভর করে বিএনপিতে বিভাজন তৈরির চেষ্টায় লিপ্ত রয়েছেন। উপজেলা বিএনপির কমিটিতে ঢোকানোর চেষ্টা করছেন। তার এই কর্মকাণ্ডে ক্ষুব্ধ উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা। অবিলম্বে তার এই অপতৎপরতা বন্ধে বিএনপির হাইকমান্ডের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন তারা।

পৌর বিএনপির ৯নং ওয়ার্ড সভাপতি আবদুল করিমের অভিযোগ, সেলিম বিএনপির ঘাঁটি ভাঙতে লক্ষ্মীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় সংসদ সদস্য এডভোকেট নুরউদ্দিন চৌধুরী নয়নের সঙ্গে গোপন বৈঠক করেছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই ছবি ভাইরাল হয়েছে। লক্ষ্মীপুরের আরেক সংসদ সদস্যের সঙ্গে গোপন বৈঠক করেছেন বলে যোগ করেন আবদুল করিম। 

জানা গেছে, শাহাদাত হোসেন সেলিম ১৯৮২ সালে এরশাদের জাতীয় পার্টিতে যোগ দেন।  ১৯৯০ সালে এরশাদের পতনের পর তিনি চট্টগ্রামের সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর পার্টি এনডিপিতে যোগ দেন। সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী বিএনপিতে যোগ দিলে সেলিমও বিএনপিতে যোগ দেন। এরপর চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক হন। তখন মীর মোহাম্মদ নাছিরউদ্দিন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সভাপতি ছিলেন। ২০০০ সালে দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গের জন্য বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হন সেলিম।

এরপর কিছুদিন রাজনীতি থেকে দূরে ছিলেন তিনি। ২০০৬ সালে কর্নেল (অব.) অলি আহম্মদ বিএনপি থেকে বের হয়ে এলডিপি গঠন করেন। ওই বছর সেলিমও এলডিপিতে যোগ দেন।  ওইসময় সেলিম তার বক্তব্যে বলেছিলেন, কোন মুসলমানের পক্ষে বিএনপি করা সাজে না। তখন বর্তমান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সম্পর্কে অশোভন বক্তব্য দিয়েছিলেন। এছাড়া বিভিন্ন টিভি-টকশোতে বিএনপি ও দলের সিনিয়র নেতাদের সম্পর্কে অরাজনৈতিক ভাষায় বক্তব্য রাখেন সেলিম।

এসব অভিযোগ প্রসঙ্গে এলডিপির একাংশের মহাসচিব সেলিম আপন দেশকে বলেন, বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে আমাকে যেতে হয়। যে ছবি নিয়ে কথা বলছে সেটি একটি বিয়ের অনুষ্ঠানের। গোপন বৈঠক নয়। বিএনপির অনেক নেতাকর্মীকে আমি জেল থেকে বের করেছি। সামাজিক কোন প্রোগ্রাম মিস করি না। যারা কুৎসা রটাচ্ছে তারা টোকাই শ্রেণীর। 

 

আপন দেশ ডটকম/এসকে/এবি

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

জনপ্রিয়