Apan Desh | আপন দেশ

৬২৫ কোটি টাকা লোকসানে নগদ, শেয়ার বাজার থেকে তুলছে ৫১০ কোটি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০২:১২, ২২ মে ২০২৩

আপডেট: ১২:৪৮, ২২ মে ২০২৩

৬২৫ কোটি টাকা লোকসানে নগদ, শেয়ার বাজার থেকে তুলছে ৫১০ কোটি

ফাইল ছবি

নগদ। লোগো দেখলেই মনে হবে এটি রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত বাংলাদেশ ডাক বিভাগের একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান। কিন্তু তা না।নগদের সেবাটি ডাক বিভাগের বলে প্রচার করা হলেও এর মালিকানায় ডাক বিভাগের কোনো অংশগ্রহণ নেই। ৬২৬ কোটি টাকা লোকসান মাথায় নিয়ে শেয়ারবাজার থেকে তুলতে যাচ্ছে ৫১০ কোটি টাকা। গড়ে বছরে ১২৫ কোটি টাকার লোকসান কাটিয়ে লাভ করবে ২৮ কোটি টাকা, এমন আশাজাগানিয়া প্রতিবেদন শোভা পাচ্ছে নগদের প্রসপেক্টাসে।  

মোবাইলে আর্থিক সেবাদাতা (এমএফএস) প্রতিষ্ঠান ‘নগদ’ বছরে গড়ে ১২৫ কোটি টাকা লোকসান করছে। এখন পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির লোকসানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬২৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ২৬২ কোটি টাকা লোকসান দিয়েছে গত ২০২১-২২ অর্থবছরে। প্রতিষ্ঠানটির ঋণের পরিমাণ বেড়ে হয়েছে ৬১৮ কোটি টাকা। এই অবস্থায় ২০১৮ সালে যাত্রা শুরু করা নগদকে দেশের শেয়ার বাজারে বন্ড ছেড়ে ৫১০ কোটি টাকা সংগ্রহের অনুমোদন দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

শেয়ার বাজার থেকে নগদ যে টাকা তুলবে, তা থেকে ৪০০ কোটি টাকা দিয়ে ঋণ পরিশোধ করবে। বাকি ১১০ কোটি টাকা ব্যবহার করবে চলতি মূলধন হিসেবে।

বন্ডের মেয়াদ পাঁচ বছর। নগদের বার্ষিক সুদহার হবে প্রায় ১০ শতাংশ। তবে নিয়মিত সুদ পরিশোধ করতে না পারলে ২ শতাংশ জরিমানা গুনতে হবে। বিএসইসিতে নগদের জমা দেয়া প্রসপেক্টাস বা বিবরণপত্রে এসব তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।

বিবরণপত্র অনুযায়ী নগদ আগামী ২০২৪ সালেও লোকসানের আশঙ্কা করছে, যা পরিমাণে পাঁচ কোটি টাকা। তবে এরপর থেকেই মুনাফায় ফেরার আশা প্রতিষ্ঠানটির। ২০২৫ সালে ২৮ কোটি টাকা, ২০২৬ সালে ৬৪ কোটি টাকা, ২০২৭ সালে ১১৪ কোটি টাকা এবং ২০২৮ সালে ১৭১ কোটি টাকা মুনাফা অর্জনের পূর্বাভাস দিয়েছে।

প্রসপেক্টাস পর্যালোচনায় দেখা যায়, নগদের সেবাটি ডাক বিভাগের বলে প্রচার করা হলেও এর মালিকানায় ডাক বিভাগের কোনো অংশগ্রহণ নেই। এতে বলা হয়েছে, দেশের এমএফএস বাজারের ৪০ শতাংশ বিকাশের, ২৫ শতাংশ নগদের ও ১৮ শতাংশ রকেটের। দেশে ১৩টি এমএফএস প্রতিষ্ঠান রয়েছে। গত বছরের জুন শেষে নগদের গ্রাহক ছিল ৬ কোটি ৪৭ লাখ। অবশ্য এর মধ্যে সক্রিয় গ্রাহক অর্ধেকের কম।

বিএসইসির মুখপাত্র মো. রেজাউল করিম বলেন, নগদ মুনাফায় যাবে, এমন পূর্বাভাস দিয়েছে। এর ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানটিকে বন্ড ছেড়ে ৫১০ কোটি টাকা তোলার অনুমতি দেয়া হয়েছে। বন্ড ছাড়ার বিধিবিধান পূরণ করায় এই অনুমোদন।

আপন দেশ/এবি

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ