Apan Desh | আপন দেশ

লিবিয়ায় যুবককে নির্যাতনের ভিডিও পাঠিয়ে মুক্তিপণ দাবি

জয়পুরহাট প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১১:২৪, ১ এপ্রিল ২০২৪

লিবিয়ায় যুবককে নির্যাতনের ভিডিও পাঠিয়ে মুক্তিপণ দাবি

ছবি: ভিডিও থেকে নেয়া

লিবিয়ায় হাত-পা বেঁধে ও মুখে কাপড় গুঁজে বাংলাদেশি যুবকদের নির্যাতন করা হচ্ছে। এমন ভিডিও স্বজনদের কাছে পাঠিয়েছে একটি মানবপাচার চক্র। সেই সঙ্গে চক্রটি মুক্তিপণ হিসেবে দাবি করছে ১০ লাখ টাকা। নির্যাতনের শিকারদের মধ্যে একজনের নাম রুবেল হোসেন। তার বাড়ি বগুড়ার গাবতলী উপজেলার আমেশ্বপুর নিশিপাড়া গ্রামে।

স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রুবেলের স্ত্রীর বড় বোনের নাম আক্তারুন। তিনি জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার তেমারিয়া নোয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। সম্প্রতি আক্তারুন তার ভগ্নিপতি রুবেল হোসেনকে নোয়াপাড়া গ্রামের মিজানুর রহমান ওরফে ধলু ও তার ভাই শাহীনের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দিয়েছিলেন। এরপর রুবেল নিজেই দালাল মিজানুরের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।

লিবিয়া যেতে রুবেল তার জমিজমা বিক্রি করে চার লাখ টাকা দালাল মিজানুরের স্বজনদের হাতে দিয়েছিলেন। পরে গত জানুয়ারি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে রুবেল লিবিয়ায় পাড়ি জমান। পরবর্তীতে গত ২৭ মার্চ রুবেলকে হাত-পা বাঁধা ও মুখে কাপড় গুঁজে লাঠি দিয়ে বেদম পেটানোর ভিডিও তার এক স্বজনের হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো হয়।

নির্যাতনের শিকার রুবেলের স্ত্রীর বড় বোন আক্তারুন বলেন, রুবেলকে লিবিয়ায় নিয়ে বসিয়ে রেখেছিলেন দালাল মিজানুর। তাকে ভালো কাজ দেয়ার কথা বলে ১৫ দিন আগে লিবিয়ার আরেকটি জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে আটকে রেখে মারধর করা হয়েছে।

আরও পড়ুন>> ইফতারে জুস খাওয়ায় বাংলাদেশিকে হত্যা

তিনি বলেন, অচেনা কণ্ঠের একজন বাংলাদেশি লিবিয়া থেকে আমাকে ফোন করে রুবেলের মুক্তিপণের জন্য ১০ লাখ টাকা চেয়েছেন। তা না দিলে রুবেলকে মেরে ফেলার হুমকি দিয়েছে। ২৭ মার্চ আমার হোয়াটসঅ্যাপে একটি ভিডিও এসেছে। 

ভিডিওতে দেখা যায়, একটি ঘরে রুবেলকে আটকে রাখা হয়েছে। সেখানে হাত-পা একসঙ্গে বেঁধে ও মুখে কাপড় গুঁজে লাঠি দিয়ে তাকে মারধর করা হচ্ছে। একই সময় রুবেলকে গোঙাতে শোনা যাচ্ছে। এ ঘটনার পর লিবিয়ায় থাকা দালাল মিজানুরকে ফোন করে তাকে পাইনি। আর ঘটনার পর থেকে মিজানুরের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। মিজানুরের বাড়িতে গিয়ে তার মা-বাবাকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।

রুবেলের মতো এমন নির্যাতনের শিকার দালাল মিজানুরের প্রতিবেশী যুবক সুমন। তাকে প্রায় ২০ দিন আগে মিজানুরের ভাই শাহীন লিবিয়ায় নিয়ে যায়। সেখানে যাওয়ার পর তিন-চার দিন সুমন কথাও বলেছে পরিবারের সঙ্গে। এরপর হঠাৎ সুমনের মুঠোফোন বন্ধ পান তার পরিবার। এরপর সুমনের পরিবার তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে মিজানুরের সঙ্গে কথা বলেন। তখন মিজানুর জানান, কয়েকদিন সুমনের সঙ্গে কথা বলা যাবে না। সুমনের মুঠোফোন বন্ধ আছে।

এরপর মিজানুরের মুঠোফোনও বন্ধ হয়ে গেলে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। কয়েকদিন পর সুমন তার পরিবারকে জানান, মিজানুর তাকে লিবিয়ায় দালালদের কাছে বিক্রি করে দিয়েছে। তারা তাকে নির্যাতন করছে। তাদের ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ না দিলে তাকে ছেড়ে দেবে না। এ পরিস্থিতিতে সুমনের পরিবার মিজানুরের বাবা, মা, স্ত্রী ও ভাইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেও মেলেনি কোনো সমাধান।

নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার মিঠাপুর পালপাড়া গ্রামের আফজাল হোসেন জানান, চার মাস আগে ভাগ্য বদলাতে লিবিয়ায় পাড়ি জমান তার ছেলে শামীম হোসেন। সেখানে কাজও পেয়েছিলেন। কিছুদিন আগে জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার তেমারিয়া নোয়ার গ্রামের লিবিয়া প্রবাসী মিজানুর রহমানের ভালো কাজ আর বেশি বেতনের প্রলোভনে পড়েন শামীম।

একপর্যায়ে তাকে আরও ভালো কাজ দেয়ার কথা বলে আটকে রেখে নির্যাতন চালিয়ে ছেলের ভয়েস এসএমএস পরিবারের কাছে পাঠিয়ে মুক্তিপণের ১০ লাখ টাকা দাবি করেন মিজানুর। পরে এ বিষয়ে শামীমের বাবা আফজাল হোসেন বাদী হয়ে মিজানুর রহমান ছাড়াও তার বাবা আবদুল্লাহ রহমান, ভাই সাগর, শাহীন ও স্ত্রী রোজিনার বিরুদ্ধে আক্কেলপুর থানায় মামলা করেন। 

জয়পুরহাটের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নুরে আলম বলেন, মানবপাচারকারী দালাল চক্রের মূলহোতা মিজানুর রহমান জয়পুরহাটসহ আশপাশের বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষকে লিবিয়ায় নিয়ে যায়। সেখানে নিয়ে গিয়ে তাদের জিম্মি করে চালানো হয় শারীরিক নির্যাতন। আর সেই নির্যাতনের ভিডিও দেশে স্বজনদের কাছে পাঠিয়ে দাবি করা হচ্ছে মুক্তিপণের ১০ লাখ করে টাকা। যারা টাকা দিতে পারছেন তাদের ছেড়ে দেয়া হচ্ছে। আর যারা টাকা দিতে পারছেন না, তাদের ওপর চালানো হচ্ছে পাশবিক নির্যাতন। দালাল চক্রটিকে গ্রেফতারে কাজ করছে পুলিশ।

আপন দেশ/এসএমএ

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

জনপ্রিয়