Apan Desh | আপন দেশ

অন্তসত্ত্বা ধর্ষকরা ৫ দিনেও গ্রেফতার হয়নি

পাবনা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৫:৪০, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

আপডেট: ১৭:৫৫, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

অন্তসত্ত্বা ধর্ষকরা ৫ দিনেও গ্রেফতার হয়নি

ফাইল ছবি

পাবনার আমিনপুরে স্বামীকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে গর্ভবতী স্ত্রীকে গণধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এতে গর্ভের সন্তান মারা গেছে। তবে ঘটনার পাঁচ দিনেও দোষীদের কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। ঘটনার পর থেকে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন ভুক্তভোগীরা। 

অভিযুক্তরা হলেন- উপজেলার চর কেষ্টপুরের মাজেদ প্রামাণিকের ছেলে সেলিম প্রামাণিক (২৩), মো. শরীফ (২৪), আনিছ সরদারের ছেলে রাজীব সরদার (২১), তালেব মন্ডলের ছেলে রুহুল মন্ডল (২৬), শফিক সরদারের ছেলে লালন সরদার (২০) ও মো. শামসুলের ছেলে সিরাজুল (২৩)।

বুধবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন আমিনপুর থানার ওসি হারুনুর রশিদ। 

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৩ ফেব্রুয়ারি রাতে চর কেষ্টপুরে কাদেরিয়া তরিক্বাপন্থিদের ওয়াজ মাহফিল হয়। মাহফিলের ডেকোরেশনের কাজ করছিলেন ভুক্তভোগী নারীর স্বামী। টাকার জন্য স্বামীর কাছে যান। সেখানে ওয়াজ শুনে পাশের আত্মীয়ের বাড়িতে যাচ্ছিলেন। এমতাবস্থায় তার পথরোধ করে অভিযুক্ত ৬ যুবক। 

একপর্যায়ে ভুক্তভোগীর স্বামীকে অস্ত্র ও ব্লেডের মাধ্যমে জিম্মি করে অভিযুক্তরা। ওই নারীকে ভুট্টা ক্ষেতে নিয়ে গিয়ে অভিযুক্তদের দুইজন পালাক্রমে ধর্ষণ করে। ওই নারীর স্বামী পালিয়ে স্থানীয়দের খবর দেন। তারা ঘটনাস্থলে গেলে অভিযুক্তদের একজনকে আটক করে গণধোলাই দেন। বাকিরা পালিয়ে যায়। ভুক্তভোগীকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

স্থানীয়রা বলেন, ‘আমাদের ওয়াজ মাহফিল তখনও চলছিল। এ সময় ওই ছেলে ছুটে এসে বলল, কিছু ছেলে তাকে মারধর করে তার স্ত্রীকে ধরে নিয়ে গেছে। একথা শোনার সঙ্গে সঙ্গেই স্থানীয়রা গিয়ে একজনকে হাতেনাতে ধরে গণধোলাই দেন। আর মেয়েটিকে উদ্ধার করে প্রাহাসপাতালে পাঠায়।’

ভুক্তভোগী নারী বলেন, ‘আমরা আমাদের আত্মীয় বাড়িতে যাওয়ার পথে তারা মাঠের মধ্যে পথ আটকায়। আমাদের বলে তোরা স্বামী-স্ত্রী কিনা। আমরা নিজেদের স্বামী-স্ত্রী দাবি করলেও তারা কর্ণপাত করেননি। ফোনে আমাদের বাবা-মায়ের সঙ্গে কথা বললেও ওরা শোনেনি। একপর্যায়ে আমার স্বামীকে ব্যাপক মারধর করে। অস্ত্র আর ব্লেডের মুখে আমার স্বামীকে জিম্মি করে আমাকে মাঠের মধ্যে ভু্ট্টা ক্ষেতে নিয়ে ধর্ষণ করে। এ সময় আমার স্বামী ছুটে গিয়ে পাশের লোকজন ডেকে আনলে একজনকে আটক করা হয়। বাকিরা পালিয়ে যায়।’

ভুক্তভোগীর নারীর স্বামী মামলার বাদী বলেন, ‘আমার স্ত্রী ৩ মাসের গর্ভবতী ছিলেন। গর্ভের সন্তান মারা গেছে। মামলা হলেও আমাদের এখনো কোনো কাগজপত্র দেয়া হয়নি। থানায় গেলে কিছু পুলিশ সদস্য নানান কথা বলেন। আর যারা ধর্ষণ করেছে তাদের পক্ষ থেকেও নানা হুমকি ও চাপ আসছে। বলছে এ ঘটনায় কিছুই হবে না, তোমাদেরই বিপদ হবে তাই মীমাংসা কর। আমরা ধর্ষণ এবং আমাদের সন্তান হত্যার বিচার চাই।’

আরও পড়ুন>> ধর্ষকের জরিমানা এক হাজার টাকা!

স্থানীয় পল্লী চিকিৎসক তোফাজ্জল হোসেন কাদেরী বলেন, ‘স্থানীয়রা ওই নারীকে উদ্ধার করে আমার কাছে নিয়ে আসলে আমি প্রাথমিক চিকিৎসা দেই। পরে তাদেরকে বলি মেয়েটাকে পাবনা জেনারেল হাসপাতাল বা রাজশাহী মেডিকেলে নিয়ে যেতে।’

অভিযুক্তরা এখনো গ্রেফতার না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাগরকান্দি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাহীন চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘অভিযুক্তরা প্রকাশ্যে দিবালোকে ঘুরছেন কিন্তু পুলিশ তাদের গ্রেফতার করতে পারছে না। এটা নিয়ে প্রশাসনের তেমন তোরজোড় আছে বলে মনে হচ্ছে না। আমরা এরকম একটা ন্যক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই। অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে কঠোর শাস্তির আওতায় নিয়ে আসার দাবি জানাই।’

তবে অভিযুক্তদের গ্রেফতারে পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত আছে বলে দাবি করেছেন আমিনপুর থানার ওসি হারুনুর রশিদ। তার দাবি, ‘অভিযুক্তরা সবাই পলাতক আছেন। তাদের গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত আছে। গ্রেফতারের বিষয়ে পুলিশি গাফিলতার বিষয়টি মিথ্যা। আমরা চেষ্টা করছি গ্রেফতারের। ধর্ষণের ঘটনা মিমাংসা হয় না, বাদীকে হুমকি-ধামকির বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হবে। তাদের নিরাপত্তার জন্য সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।’

আপন দেশ/এএন/এসএমএ

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

জনপ্রিয়