Apan Desh | আপন দেশ

‘পাবনায় মরেও শান্তি নেই’

পাবনা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২১:১৫, ১০ জুন ২০২৪

আপডেট: ১১:৩১, ১১ জুন ২০২৪

‘পাবনায় মরেও শান্তি নেই’

ছবি: প্রতিনিধি

পাবনায় কঙ্কাল চুরির হিড়িক পড়েছে। গত ছয় মাসেই তিন দফায় ২৫ কঙ্কাল চুরি হয়েছে। উদ্ধার দূরে কথা, চোর চক্রের টিকির নাগালও পায়নি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। রোববার (৯ জুন) দিবাগত রাতেও কঙ্কাল চুরি হয়েছে। এর আগে, শুক্রবারও (৮ জুন) কবরস্থান থেকে কঙ্কাল চুরি হয়। এ দু’দফায় ১০ কঙ্কাল চুরি হলো।

রোববার সাঁথিয়া উপজেলার রাজাপুর কেন্দ্রীয় কবরস্থান থেকে পাঁচটি কঙ্কাল চুরি হয়। সোমবার দুপুরে চুরির ঘটনা জানতে পারেন এলাকাবাসী। এর আগে, গত শুক্রবার সুজানগর উপজেলার একটি কবরস্থান থেকে পাঁচটি কঙ্কাল চুরি হয়।

আরও পড়ুন>> কবরস্থান থেকে ‘গায়েব’ ৯ কঙ্কাল

স্থানীয় বাসিন্দা আরিফ হোসেনসহ কয়েকজন জানান, সাঁথিয়ার ক্ষেতুপাড়া ইউনিয়নের রাজাপুর কেন্দ্রীয় কবরস্থানে পাশ দিয়ে তিলের জমিতে যাচ্ছিলেন এক কৃষক। এ সময় তিনি কবরের উপরে বাঁশের চাটাই সরানো ও মাটি খোঁড়া দেখতে পান। পরে কবরস্থানের ভেতরে গিয়ে দেখেন পাঁচটি কবর খোঁড়া, ভেতরে মরদেহের কোনো কিছু নেই। কবরগুলো অনেকদিনের পুরোনো।

ক্ষোভ প্রকাশ করে সুজানগরের বাসিন্দা সেলিম রেজা বলেন, ‘মহামান্য রাষ্ট্রপতির বাড়ি পাবনায়। বিশেষ এ জেলার মানুষ বিশেষ নিরাপদ থাকার কথা। কিন্তু ঘটছে উল্টো। জীবদ্দশায় যেমন তেমন; কঙ্কালের নিরাপত্তাও নেই। এখানে মরেও যেন শান্তি নেই।’ তার মতো ক্ষোভে ফুঁসছেন জেলার বেড়া এবং সাথিয়াবাসীও।

ক্ষেতুপাড়া ইউনিয়ন পরিষেদের চেয়ারম্যান মনসুর আলম পিনচু বলেন, এর আগে দুই জায়গার কবর থেকে কঙ্কাল চুরি হয়েছে। এবার আমার এলাকায় হলো। এক থেকে দেড় বছর আগে মারা যাওয়া মানুষের কঙ্কাল চুরি হচ্ছে। কারা কি কারণে একের পর এক কঙ্কাল চুরি করছে বুঝতে পারছি না। মানুষের মাঝে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে। আমি পুলিশ ও ইউএনওকে জানিয়েছি।

ওই জেলার বাসিন্দা ঢাকায় কর্মরত সিনিয়র সাংবাদিক গোলাম মওলা। তিনি বলেন, কঙ্কাল চুরি ভালো লক্ষণ নয়। মারা যাওয়ার পরে মানুষের কঙ্কাল শান্তিতে থাকার কথা। চুরির পরিসংখ্যান বলছে, মরার পরেও শান্তিতে থাকার কায়দা নেই। কারা করছে, কোথায় যাচ্ছে, সেটা বের করা দরকার। নইলে প্রচলন হয়ে যাবে যে, মানুষকে মরার পরেও শান্তি দিলো না। এটা শুধু পাবনার জন্যই নয়, দেশের জন্যও খারাপ বার্তা। এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সতর্ক অবস্থান প্রত্যাশা করেন তিনি।

আরও পড়ুন>> স্বামীর পুরুষাঙ্গ কেটে পালালেন স্ত্রী

সাঁথিয়া থানার ওসি আনোয়ার হোসেন বলেন, কবরস্থান পরিদর্শন করেছে পুলিশ। কিছু কবর আংশিক খুঁড়ছে, কোনোটা সম্পূর্ণ খুঁড়ছে। এটা অমানবিক কাজ। কেউ লিখিত অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেব। তারপরও এ চক্রকে ধরতে চেষ্টা করছে পুলিশ।

সাঁথিয়ার ইউএনও জাহিদুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন তিনি। কবরস্থান থেকে কঙ্কাল চুরির কারণ খতিয়ে দেখা হবে বলেও জানান।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ১৯ মার্চে বেড়া উপজেলার খাস আমিনপুর কেন্দ্রীয় কবরস্থান থেকে প্রথম কঙ্কাল চুরির ঘটনা ঘটে। সেই কবরস্থান থেকে ১৫ কঙ্কাল চুরি হয়েছিল। ওই ঘটনায় এখন পর্যন্ত রহস্য উদঘাটন বা জড়িত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।

আপন দেশ/আরএন/এবি/এসএমএ

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

জনপ্রিয়