Apan Desh | আপন দেশ

মেয়েকে খুন করেছেন বাবা, জানা গেল ৭ বছর পর

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৮:২১, ২২ জানুয়ারি ২০২৩

মেয়েকে খুন করেছেন বাবা, জানা গেল ৭ বছর পর

ছবি: আপন দেশ ডটকম

ঘটনার সাত বছর পর খুনির বরাত দিয়ে পুলিশ জানাল পিতাই খুন করেছে কন্যাকে। নিজ হাতে মেয়েকে খুন করেছিলেন আ. কুদ্দুছ খাঁ। এরপর মেয়ে-জামাইয়ের বিরুদ্ধে অপহরণের মামলা করে বার বার নারাজি দেন। পরে যৌতুকের জন্য নির্যাতন করে মেয়েকে হত্যার অভিযোগেও মামলা করেন।

শেষ পর্যন্ত নিজ মেয়েকে খুনের দায়ে আ. কুদ্দুছ খাঁ (৫৮) নিজেই ফেঁসে গেছেন পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের জালে। আ. কুদ্দুছ খাঁর বাড়ি টাঙ্গাইলে। খুনের ঘটনা ঘটেছে জয়পুরহাটে। ধরা পড়লেন ঢাকা জেলা পিবিআইয়ের তদন্তাধীন মামলায়।

রোববার (২২ জানুয়ারি) দুপুরে পিবিআই সদর দফতরে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান পিবিআইপ্রধান বনজ কুমার মজুমদার। 
তার ভাষ্য, কুদ্দুছ খাঁ মেয়েকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। শুক্রবার (২০ জানুয়ারি) আদালতে ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে এই লোমহর্ষক হত্যার বিবরণ দেন কুদ্দুছ খাঁ।

বনজ কুমার জানান, এই হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষাপট তৈরি হয় ২০১২ সালে। ওই বছর কুদ্দুছ খাঁর মেয়ে পারুল আক্তার টাঙ্গাইলের কালিহাতির নাছির উদ্দিন ওরফে বাবুকে (১৯) ভালোবেসে ঢাকায় পালিয়ে এসে বিয়ে করে। এ ঘটনায় কুদ্দুছ খাঁ ২০১২ সালে কালিহাতি থানায় জিডি করেছিলেন।

বিয়ের বিষয়টি ২ পরিবার মেনে না নেওয়ায় পারুল ও বাবু ঢাকার আশুলিয়ার জামগড়ায় বসবাস শুরু করেন। চাকরি নেন একটি তৈরি পোশাক কারখানায়। কিছুদিনের মধ্যে পারিবারিক অশান্তি শুরু হলে পারুল তার বাবাকে ফোন করে বিষয়টি জানান। বাবা কুদ্দুছ খাঁ মেয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত ছিলেন। মেয়ে পালিয়ে বিয়ে করায় একধরনের অপমান বোধ ও প্রচণ্ড রাগও ছিল তার। তিনি একপর্যায়ে মেয়েকে ভালো ছেলে দেখে অন্যত্র বিয়ে দেয়ার কথাও বলেন।

পিবিআইপ্রধান জানান, ২০১৫ সালের ১৮ জুলাই পারুলের স্বামী নাছির তার নানিকে দেখতে যান। সেই সুযোগে পারুল ১৯ জুলাই বাবাকে ফোন করে টাঙ্গাইলে যান। এ দিনই নাছির কুদ্দুছ খাঁর বিরুদ্ধে তার স্ত্রীকে বাবার বাড়ি পালিয়ে যেতে প্ররোচনা দেয়ার অভিযোগে আশুলিয়া থানায় জিডি করেন।

সেদিন কুদ্দুছ খাঁ পারুলকে নিজের বাড়িতে না নিয়ে প্রথমে ভূঁয়াপুরে বন্ধু মোকাদ্দেছ মণ্ডলের বাড়িতে নিয়ে যান। সেখান থেকে তাকে নিয়ে যান জয়পুরহাটের পাঁচবিবি এলাকায় একটি নদীর পাশে। সেখানে রাতের অন্ধকারে পারুলকে বন্ধু মোকাদ্দেছের সহযোগিতায় গলায় গামছা পেঁছিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন কুদ্দুছ খাঁ।

বনজ কুমার বলেন, আসামির ১৬৪ ধারায় দেয়া বর্ণনা অনুসারে তারা তিনজন রাতের অন্ধকারে নদীর পাড় ধরে ধরে হাঁটতে থাকেন। একপর্যায়ে কুদ্দুছ খাঁ মেয়েকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন। এরপর মেয়ের ওড়না ২ টুকরা করে এক টুকরা দিয়ে তার হাত বাঁধেন। মোকাদ্দেছ আরেক টুকরা দিয়ে পারুলের পা বেঁধে ফেলেন। এ অবস্থায় কুদ্দুছ খাঁ গলায় গামছা পেঁচিয়ে মেয়েকে হত্যা করেন। পরে তার ভিকটিমের মরদেহ নদীতে ফেলে টাঙ্গাইলে ফিরে আসেন।

পিবিআইপ্রধান আরও জানান, ওই বছরের ৪ আগস্ট পারুলের স্বামী নাছির উদ্দিনের বিরুদ্ধে টাঙ্গাইলের আদালতে মামলা করেন কুদ্দুছ খাঁ। মামলার পর কালিহাতি থানা পুলিশ তদন্ত করে পারুলের প্রেম করে বিয়ে করার সত্যতা পায়। কিন্তু ঘটনাস্থল তাদের এখতিয়ারবহির্ভূত বলে প্রতিবেদন দাখিল করে।

এ অবস্থায় মামলার বাদী কুদ্দুছ খাঁর বারবার নারাজির পরিপ্রেক্ষিতে টাঙ্গাইল সিআইডি ও টাঙ্গাইল পিবিআই তদন্ত করে একই প্রতিবেদন দেয়। শেষ পর্যন্ত আদালত বিচারিক তদন্ত করে প্রতিবেদনে বলেন, বাদী ঢাকার আদালতে মামলা করলে প্রতিকার পেতে পারেন।

এরপর গত বছরের ২৭ নভেম্বর কুদ্দুছ খাঁ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে পারুলকে যৌতুকের জন্য মারপিট করে হত্যার অভিযোগে আরেকটি মামলার আবেদন করেন। ৩০ নভেম্বর আদালত আশুলিয়া থানাকে মামলা গ্রহণ এবং ঢাকা জেলা পিবিআইকে মামলাটি তদন্তের নির্দেশ দেন। আশুলিয়া থানায় ১১ ডিসেম্বর মামলা দায়ের করা হলে ঢাকা জেলা পিবিআই তদন্ত শুরু করে।

বনজ কুমার জানান, এই মামলার পর পিবিআই পারুলের স্বামী নাছির উদ্দিনকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠায়। ডাকা হয় বাবা কুদ্দুছ খাঁকে। কিন্তু জিজ্ঞাসাবাদে তিনি অসামঞ্জস্যপূর্ণ তথ্য দিতে থাকেন। একপর্যায়ে নিজ হাতে মেয়েকে হত্যার কথা স্বীকার করেন। এ ঘটনায় কুদ্দুছ খাঁর বন্ধু ও হত্যাকাণ্ডে সহযোগী মোকাদ্দেছকেও গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানান পিবিআইপ্রধান।

আপন দেশ ডটকম/ সবুজ

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

জনপ্রিয়