Apan Desh | আপন দেশ

‘ক্ষেত দেখলে কান্না আসে’

নীলফামারী প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৬:০৪, ১৪ জানুয়ারি ২০২৪

‘ক্ষেত দেখলে কান্না আসে’

ছবি: আপন দেশ

নীলফামারীর তিস্তার চরে কৃষির অপার সম্ভাবনা হিসেবে দেখা দিয়েছে। চরে উৎপাদিত হচ্ছে আলু, পেঁয়াজ, আদা, রশুন, মরিচ। দানাদার শস্যের মধ্যে ধান, ভুট্টা, গম, তিল ও তিসি। জেলার ডিমলা উপজেলার টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়নে রয়ছেন তিনজন সহকারী কৃষি কর্মকর্তা। কিন্তু কৃষকের দুঃখে পাশে নেই তারা। সমস্যায় পড়লে পরামর্শ নিতে হয় মোবাইল ফোনে, নতুবা যেতে হয় বাজারের কীটনাশক বিক্রেতার দ্বারে।

সরেজমিনে ওই ইউনিয়নের টাপুর চর এলাকায় দেখা গেছে, তীব্র শীতের কারণে আলুর কাণ্ডে পঁচন ধরেছে। এতে দিশেহারা হয়ে পড়েছে কৃষক। প্রতিদিনে আলু খেতে দিতে হচ্ছে কীটনাশক। একদিকে তীব্র শীত, অন্যদিকে প্রতিনিয়ত কীটনাশক স্প্রে। 

কয়েক দিনের জেঁকে বসা কুয়াশায় কৃষকের মনে ঘনিভূত করেছে শঙ্কার। আলু ও বোরোও বীচতলা নিয়ে চিন্তা ক্রমশই বাড়ছে। আলু পচন রোগ বা লেটব্লাইট, বোরোর বীজতলা আক্রান্ত হচ্ছে কোল্ড ইনজুরিতে। বীজতলা তৈরির শেষ মুহূর্তে বৈরি আবহাওয়ায় যেন নিরুপায় চাষিরা। 

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এবারে উপজেলায় ১ হাজার ৮৫০ হেক্টর জমিতে আলু চাষা করছে কৃষক। আগাম জাতের আলু ৩০০ হেক্টর আবাদ হয়েছে এবং তা বাজারজাত করা শেষ হয়েছে।

আরও পড়ুন>> চাকরি না মেলায় সাইদুল এখন কমলাচাষি

টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের টাপুর চর এলাকার রুমান আলী জানান, প্রতিদিনে আলু ক্ষেতে ওষুধ দিতে হয়। কীটনাশক ছিটাচ্ছি কিন্তু কোনো কাজ হচ্ছেই না। তীব্র শীতের মধ্যেই ওষুধ দিতে হচ্ছে। কৃষি অফিসারের পরামর্শ নিতে হলে ফোন দিতে হয়। যদিও আসে একতা বাজার দিয়ে ঘুরে যায়। নাহলে আমাদের কীটনাশকের দোকানে যেতে হয় ওষুধ নিতে হয়।

শেখ ফরিদ নামের আরেকজন কৃষক জানান, ওষুধ দিতে দিতে দিশেহারা। ক্ষেতের আলুর অবস্থা দেখলে কান্না চলে আসে। কৃষি অফিসার তো আসেই না, না আসলে কোন রোগ ধরেছে তা দূর থেকে বলা সম্ভব। সেজন্য ফোন দেই না, দোকানে নিয়ে দেখিয়ে ওষুধ নিয়ে আসছি, দিচ্ছি।

তবে ডিমলা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সেকেন্দার আলী জানান, মাঠে সকলেই সজাগ আছে। একটা এলাকা তো বিস্তৃত এলাকা সবাই কাজ করছে। আর বৈরি আবহওয়াতে ফসলের কিছু রোগ বালাই হবে। সেটার বিষয় আমরা তৎপর আছি। মাঠ পর্যায়ে কাজ চলছে রেজিস্টার মেন্টেনিং করে, ডুকুমেন্টেড করে কৃষককে পরামর্শ অব্যাহত আছে। 

‘দলীয় সভা জোরদার করা হয়েছে, উঠান বৈঠক করছি আমরা। ২-৩ দিন পর আবহাওয়া ঠিক হয়ে গেলে আমরা এটা কাভার করতে পারবো। বীজতলায় পচন ধরলে কৃষক রাতে পানি দিবে, পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখবে এটাই তো নিয়ম।’

এ বিষয়ে মাঠ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা শাহজাহান আলীর সাথে যোগাযোগ করা হয়। তিনি জানান, আমি এখনও একতা বাজারে আছি, নিয়মিত এখানে আসি, সকল ধরনের পরামর্শ ও সহযোগিতা দিচ্ছি। কেউ যদি রাতে খুঁজে বা ফোন দেয় তাহলে তো ফোনের মাধ্যমে তাকে পরামর্শ দিতে হবে। তবে, মধ্যে চরে একটু কম যাওয়া হয়।

আপন দেশ/আরএস/এসএমএ

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

জনপ্রিয়