Apan Desh | আপন দেশ

প্রধান নয়, অতিরিক্ত প্রধানে আস্থা মন্ত্রণালয়ের!

বিশেষ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০২:২০, ২১ জুন ২০২৩

আপডেট: ১৩:১৫, ২১ জুন ২০২৩

প্রধান নয়, অতিরিক্ত প্রধানে আস্থা মন্ত্রণালয়ের!

ফাইল ছবি

ঘটনা স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের। প্রকল্পের কাজ শেষ না করেই সমুদয় টাকা উত্তোলনসহ ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের খোঁজে গঠন করা হয় তদন্ত কমিটি। বড় দুর্নীতি তাই অধিদফতরের বর্তমান প্রধান প্রকৌশলী মো. সরোয়ার হোসেনের নেতেৃত্বে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়।

আবার একই ঘটনায়, একই অধিদফতরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. মীর আব্দুস সাহিদের নেতৃত্বে তিন সদস্যের অন্য একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দেয়া হয় মন্ত্রণালয়ে। চাউর অনিয়মের ঘটনা তদন্তে ব্যাপক অনিয়ম দেখা দিয়েছে। প্রধান প্রকৌশলীর চেয়ে অতিরিক্ত প্রকৌশলীর ওপরই আস্থা বেশি মন্ত্রণালয়ের।

জানা যায়, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়িত পাবনা জেলায় সুজানগর পৌরসভায় আর্সেনিকমুক্ত সুপেয় পানি সরবরাহ ও পানি নিস্কাশনের জন্য ‘পাইপড ওয়াটার সাপ্লাই এন্ড এনভায়রনমেন্টাল স্যানিটেশন’ প্রকল্পের কাজ সমাপ্ত না করে সমস্ত টাকা উত্তোলন সহ ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগস্থানীয় সরকার বিভাগ যুগ্মসচিব (পাস) নের্তৃত্বে গঠিত তদন্ত কমিটি গত ৩১ আগষ্ট সরেজমিন তদন্ত করেন।

তদপ্রেক্ষিতে নিম্নমানের কাজের জন্য সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের অনুরোধ করলে স্থানীয় সরকার বিভাগপ্রকল্পেরকাজেরবিষয়দায়দায়িত্ব নির্ধারনের জন্য নির্দেশনায় বর্তমান প্রধান প্রকৌশলী মো. সরোয়ার হোসেনের নেতেৃত্বে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়।যার স্মারক নম্বর-২১০৩, তারিখ-২৪/১০/২০২২ ইং।এই কমিটি একটি তদন্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়ে দাখিল করে।যার স্মারক নম্বর-৩৪৩৫, তারিখ-১৮/১২/২০২২ ইং। কিন্তু জমা দেওয়া রিপোর্টে অসঙ্গতি থাকায় তদন্তে সুস্পষ্ট মতামত এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের সাথে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্যসহ স্থানীয় সরকার বিভাগ পুনরায় প্রতিবেদন দিতে বলে। যার স্মারক নম্বর (স্থানীয় সরকার বিভাগ, পাস-১ শাখা) -১২৬, তারিখ-০২/০২/২০২৩ ইং।

এরপর স্থানীয় সরকার বিভাগের নির্দেশনা মোতাবেক নতুন করে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. মীর আব্দুস সাহিদের নেতৃত্বে তিন সদস্যের অপর একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। যার স্মারক নম্বর-৫০৪৬, তারিখ-১২/০৩/২০২৩ ইং।

আরও পড়ুন <> ‘এইটুকুই বললাম, আর কিছু না - - -’

অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্পের কাজে অনিয়ম দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের বিষয়টি দৃশ্যমান থাকলেও প্রথম দফায় প্রধান প্রকৌশলী মো. সরোয়ার হোসেনের নেতেৃত্বে গঠিত তদন্ত কমিটি বিশেষ কারনে দাখিলকৃত রিপোর্টে তা পাশ কাটিয়ে গিয়েছেন। অভিযোগ উঠেছে সুবিধা নিয়ে অপরাধীদের দায়মুক্তি দেয়ার অপকৌশলের। বিষয়টি অনুধাবন করতে পেরে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয় থেকে নির্দিষ্ট কিছু বিষয় উল্লেখ করে তদন্তে সেই সব বিষয়ে স্পষ্ট তদন্ত রিপোর্ট চাওয়া হয়। কিন্তু দ্বিতীয় দফাতেও টার্গেট পয়েন্ট এড়িয়ে যাওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এক প্রকার বাধ্য হয়েই অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. মীর আব্দুস সাহিদের নেতৃত্বে নতুন তদন্ত কমিটি গঠন করে বলে সূত্রের দাবি।

যদিও প্রধান প্রকৌশলী মো. সরোয়ার হোসেনের নেতেৃত্বে গঠিত তদন্ত কমিটি দ্বিতীয় দফা তদন্ত রিপোর্ট জমা দিয়েছেন কিংবা দ্বিতীয় দফা তদন্তের নির্দেশনা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বাতিল করেছেন এমন কোনো তথ্য প্রমান পাওয়া যায়নি। তবে এরপরও নতুন তদন্ত কমিটি গঠন করে দেয়া হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি সূত্র জানায়, প্রধান প্রকৌশলী মো. সরোয়ার হোসেনের নেতেৃত্বে গঠিত তদন্ত কমিটি দ্বিতীয় দফা তদন্ত রিপোর্ট মন্ত্রনালয়ে জমা দিয়েছিল। তবে ওই রিপোর্টে গঠিত তদন্ত কমিটির সদস্য সচিব রাজশাহী সার্কেলের (তৎকালীন) তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এস এম শামীম আহমেদ এবং সদস্য ভান্ডার সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মাহমুদ কবির চৌধুরী নামীয় স্বাক্ষর থাকলেও এ দুইজনের কেউই এ স্বাক্ষর দেননি। এমনকি দ্বিতীয় দফা জমা দেয়া রিপোর্ট সম্পর্কে তারা কিছুই জানেন না। তাছাড়া এ রিপোর্টের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার বিভাগের যুগ্মসচিবের (পাস) নের্তৃত্বে গঠিত তদন্ত কমিটিকে বিতর্কিত করার একটি ষড়যন্ত্রও থাকতে পারে বলে দাবি সূত্রের। আর জালিয়াতির বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বুঝতে পারলে প্রধান প্রকৌশলীর দ্বিতীয় দফা জমা দেওয়া রিপোর্টটি উধাও হয়ে যায়।

আরও পড়ুন <> গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ: শাহ পরানের দুর্নীতির বাক্স ভরছে কোটি টাকায়

সূত্রের আরো দাবি, প্রধান প্রকৌশলীর নেতেৃত্বে গঠিত তদন্ত কমিটি দ্বিতীয় দফা তদন্ত রিপোর্ট জমা না দিলে কিংবা তদন্ত চলমান থাকতে কিভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আবার নতুন একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। এতেই প্রমানীত দ্বিতীয় দফা জমা দেয়া তদন্ত রিপোর্টও হয়তোবা বিতর্কিত ছিল তাই সেটিকে আড়াল করে নতুন তদন্ত কমিটি গঠন করে দেয়া হয়েছে।

প্রধান প্রকৌশলী মো. সরোয়ার হোসেন এ ব্যাপারে বলেন, মন্ত্রনালয় দ্বিতীয় দফা নির্দিষ্ট কিছু বিষয় উল্লেখ করে তদন্ত করে রিপোর্ট দিতে বললেও পরক্ষনেই নতুন কমিটি গঠন করে দিয়েছে। কারো স্বাক্ষর জালিয়াতী করে রিপোর্ট জমা দিয়েছি এটি সঠিক নয়। যেখানে রিপোর্ট জমা দেইনি সেখানে কিভাবে স্বাক্ষর জালিয়াতী হয়।

বিষয়টি নিয়ে প্রকৌশলী এস এম শামীম আহমেদ বলেন, প্রথম দফা আমরা তদন্ত রিপোর্ট জমা দিয়েছি কিন্তু দ্বিতীয় দফায় আমি এবং কমিটির অপর সদস্য আমরা কোনো তদন্ত রিপোর্টে স্বাক্ষর করিনি। এমনকি দ্বিতীয় দফা রিপোর্ট জমা দেয়া হয়েছে বলেও আমাদের জানা নেই।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, একটি তদন্ত কমিটি চলমান থাকতে একই বিষয়ে নতুন আর একটি কমিটি গঠন করা দৃষ্টিকটু ও বিতর্কিত বটে। নতুন কমিটি গঠন করতে হলে পূর্বের কমিটির তদন্ত রিপোর্ট জমা দেয়ার পর তা বাতিল করতে হবে অথবা পূর্বে গঠিত কমিটি ভেঙ্গে দিয়ে নতুন কমিটি গঠন করতে হবে।

প্রসঙ্গত: গত বছরের ৩১ আগষ্ট স্থানীয় সরকার বিভাগের যুগ্ম সচিব (পানি সরবরাহ অধিশাখা) মো. জসিম উদ্দিনকে আহবায়ক করে উচ্চ পর্যায়ের একটি তদন্ত কমিটি এরপর দ্বিতীয় দফায় গত ২৮ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়ের উপসচিব-৩ (পানি সরবরাহ) মোহাম্মদ ফজলে আজিমের নেতৃত্বে অপর একটি তদন্ত দল অনিয়ম দুর্নীতি সরেজমিন তদন্ত করে। পরবর্তিতে দুটি তদন্ত কমিটিই তাদের রিপোর্ট জমা দিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে যথাযথ ব্যবস্থার সুপারিশ করে।

আপন দেশ/এবি

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

জনপ্রিয়