Apan Desh | আপন দেশ

বইমেলা পেয়েছিল বসন্ত-ভালোবাসার ছোঁয়া

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১২:৪৫, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

আপডেট: ১২:৪৬, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

বইমেলা পেয়েছিল বসন্ত-ভালোবাসার ছোঁয়া

ছবি : সংগৃহীত

প্রকৃতিতে ঋতুরাজ বসন্তের আবেশ। বুধবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) ছিল পহেলা ফাল্গুন। এইসঙ্গে ভালোবাসা দিবস। দুইয়ে মিলে অন্যরকম আবহ পেয়েছিল অমর একুশে বইমেলা।   

এদিন সরস্বতী পূজা উপলক্ষে সরকারি ছুটির দিন হওয়ায় এবং দুটি বিশেষ দিবস একসঙ্গে থাকায় মেলায় পাঠক ও দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় ছিল। মেলার এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্তে তাকিয়ে রবীন্দ্রনাথের কবিতার কথাই মাথায় আসে, ‘ঠাঁই নাই, ঠাঁই নাই। ’

সরেজমিন দেখা যায়, বিকাল থেকেই মেলায় ভিড় ছিল লক্ষ্যণীয়। বিকাল গড়িয়ে সন্ধ্যা হতেই মেলা পরিণত হয় জনসমুদ্রে। যেদিকে চোখ যায় মানুষ আর মানুষ। মেলার প্রবেশমুখগুলোতে ছিল দীর্ঘ লাইন। প্রবেশমুখগুলোতে মানুষের চাপ সামলাতে বেগ পেতে হয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদেরও।

মেলার ভেতরের অবস্থা ছিল আরও অন্যরকম। এক পা এগোলে আরেক পা এগোনো যায় না এমন। প্যাভিলিয়নগুলোর পাশাপাশি স্টলগুলোতেও ভিড় ছিল লক্ষ্যণীয়। তবে প্যাভিলিয়নগুলোতে দর্শনার্থীদের চাপ সামলাতে ব্যস্ত সময় পার করতে দেখা গেছে বিক্রয়কর্মীদের।  
বিক্রয়কর্মীরা জানান, এমন ভিড় আজই প্রথম এবারের বইমেলায়।

প্রকাশক ও আয়োজকরা জানান, ফাল্গুনের প্রথম দিন থেকে মেলায় যে বসন্তের ছোঁয়া লাগে তা মেলার শেষ অবধি অব্যাহত থাকে। এবারো ব্যতিক্রম হবে না। বরং অন্যান্যবারের চেয়ে মেলা আরও প্রাণবন্ত হবে এবং মেলায় বিক্রিবাট্টাও বেশি হবে বলে তারা আশা করছেন। কেননা করোনা এবং করোনা-পরবর্তী সময়ে ঢিমেতালে চলা বইমেলা এবার পুরোপুরি প্রাণ ফিরে পেয়েছে। তাই বসন্তের এই রঙ মেলার সামনের দিনগুলোতেও থাকবে। অন্যান্যবারের চেয়ে সবচেয়ে বেশি বই বিক্রি হবেও বলেও কেউ কেউ ধারণা করেন।

বরাবরের নিয়ম ধরে বুধবার বিকেল ৩টায় বইমেলার দুয়ার খুলে দেওয়া হয়। আর সঙ্গে সঙ্গে তারুণ্যের পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে মেলা প্রাঙ্গণ। হলুদ কিংবা লাল রঙের শাড়িতে মেয়েরা আর ম্যাচিং করা পাঞ্জাবি পরে ছেলেদের মেলায় প্রবেশ করতে দেখা যায়। তরুণীদের মাথায় ছিল ফুলের মালা। কারো কারো হাতে ছিল প্রিয়জনের উপহার দেয়া লাল গোলাপ কিংবা অর্কিড ফুল। বিকেলের পর গোটা মেলায় ছিল উপচে পড়া ভিড়। 

মেলায় মগবাজার থেকে আসা মেহেরুন নেছা সিনথিয়া বলেন, ‘আজ ভালোবাসা দিবস এবং পহেলা ফাল্গুন। বসন্তকে বরণ করে নিতে একটু স্পেশালভাবে বের হয়েছি। দুপুর থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ঘুরেছি। বিকালের পর এসেছি বইমেলায়। প্রিয় লেখকের কিছু বইও কিনলাম। ’

অন্বেষা প্রকাশনীর এক বিক্রয় প্রতিনিধি বলেন, ‘অন্যান্য দিনের চেয়ে আজ (বুধবার) মেলায় ভিড় বেশি। বইও বিক্রি হয়েছে ভালো। গল্প-উপন্যাসসহ প্রেমের কবিতার বই বেশি বিক্রি হয়েছে। ’

পাঞ্জেরি পাবলিকেশনের বিক্রয়কর্মী অনামিকা শিকদার বলেন, ‘আজকের মতো ভিড় মেলা শুরুর পর হয়নি। বই দেখিয়ে শেষ করতে পারছিলাম না। চাপ হলেও উপভোগ করছি এত ভিড়। ’

আরও পড়ুন <> বইমেলায় বসন্তের আবহ

এদিকে মেলার প্রভাবে আশেপাশের সড়কেও তৈরি হয় দীর্ঘ যানজট। শাহবাগ, মৎস্য ভবন, নীলক্ষেত, পলাশি মোড়, আশেপাশের সব গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে গাড়িগুলোকে অপেক্ষা করতে দেখা যায় দীর্ঘসময়। মেলাগামী মানুষকে এ সময় রিকশা ও বাস থেকে নেমে মেলায় আসতে দেখা যায়।

মেলায় আসা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আহনাফ তাহমিদ ফাইয়াজ বলেন, ‘মৎস্য ভবন থেকে শাহবাগ আসতে প্রায় আধা ঘণ্টা লেগেছে। পরে রিকশা ছেড়ে হেঁটে এসেছি। এখন মেলায় ঢোকার জন্যও যুদ্ধ করতে হচ্ছে। ’

তবে দর্শনার্থীরা জানান, ভিড় হলেও বসন্ত, ভালোবাসা আর সরস্বতী পূজার দিন বইমেলায় এসে উপভোগ করছেন তারা। ঘুরে ঘুরে কিনেছেন বই, কেউ বা তুলেছেন সেলফি। আবার কেউ কেউ মেলা থেকে বের হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় টিএসসি, শহীদ মিনারে দিয়েছেন আড্ডা।

বুধবার বইমেলার ১৪তম দিনে নতুন বই এসেছে ৯১টি।এদিন বিকেল ৪টায় বইমেলার মূল মঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় ‘ভাষাসংগ্রামী গাজীউল হক’ শীর্ষক আলোচনা সভা। এতে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রাফাত আলম মিশু। আলোচনায় অংশ নেন সুজাতা হক এবং মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির। সভায় সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক আবদুল মান্নান চৌধুরী।

‘লেখক বলছি’ অনুষ্ঠানে নিজেদের নতুন বই নিয়ে আলোচনা করেন লেখক ও কার্টুনিস্ট আহসান হাবীব, কবি শাহেদ কায়েস, লেখক ও সংগীতজ্ঞ তানভীর তারেক এবং কথাসাহিত্যিক মাজহার সরকার। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে কবিতা পাঠ করেন কবি মারুফুল ইসলাম, মাসুদুজ্জামান, ইসমত শিল্পী এবং সাহেদ মন্তাজ।

আবৃত্তি পরিবেশন করেন আবৃত্তিশিল্পী মাসকুর-এ-সাত্তার কল্লোল, মাসুদুজ্জামান এবং চৈতালী হালদার। পুঁথিপাঠ করেন মো. শহীদ এবং মো. কুদ্দুস মিয়া। সংগীত পরিবেশন করেন শিল্পী রফিকুল আলম, খুরশীদ আলম, মামুনুল হক সিদ্দিক, মুর্শিদুদ্দীন আহম্মদ, মো. রেজওয়ানুল হক, কাজী মুয়ীদ শাহরিয়ার সিরাজ জয়, আঞ্জুমান আরা শিমুল, চম্পা বণিক, শরণ বড়ুয়া এবং অনন্যা আচার্য।

আজ বৃহস্পতিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সপ্তাহের শেষ কর্মদিবসে মেলা শুরু হবে বিকাল ৩টায়, চলবে রাত ৯টা পর্যন্ত। বিকাল ৪টায় মেলার মূল মঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে ‘স্মরণ: আবদুল হালিম বয়াতি’ শীর্ষক আলোচনা। এতে প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন জোবায়ের আবদুল্লাহ। আলোচনায় অংশ নেবেন শফিকুর রহমান চৌধুরী এবং মো. নিশানে হালিম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন সাইদুর রহমান বয়াতি। 

আপন দেশ/এমআর

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

জনপ্রিয়